‘মালিকানা’ বদলালেও সালারের ‘রাইটার্স’ শিরিষতলা আজও মানুষের ভরসাস্থল
বর্তমান | ১১ এপ্রিল ২০২৬
ইন্দ্রজিৎ কর্মকার, কান্দি: পারিবারিক সমস্যার সমাধান, সামাজিক সমস্যা মেটানো থেকে রাজনৈতিক রণকৌশল তৈরি। একসময় এই সমস্ত কিছু শিরিষতলায় বসেই হয়েছে। আবার আজও হয়ে আসছে। তাই সালার থানার শিরিষতলায় হল বাসিন্দাদের ভরসাকেন্দ্র। বাসিন্দারা বিপদে আপদে আজও শিরিষতলাতেই ছুটে আসেন। কারণ দিন বা রাতের যে কোন সময় সেখানে গেলেই দেখা মেলে নেতাদের, মেটে সমস্যাও।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সালার পঞ্চায়েত ভবন, সালার গ্রামীণ হাসপাতাল, সালার রেল স্টেশন ও সালার ত্রিদিব চৌধুরী বাস টার্মিনাস ঘিরে রেখেছে ওই প্রাচীন শিরিষগাছটিকে। ওই গাছের নীচে যেমন একাধিক খুন হয়েছে। তেমনি মানুষের সমস্যার সমাধানও হয়েছে। তাই বাম আমলে এই এলাকাকে ‘রাইটার্স’ বলেও ডাকতেন অনেকে। সালারের প্রবীণ বাসিন্দা এমদাদুল হক বলেন, শিরিষতলা বহু রাজনৈতিক ঘটনার সাক্ষী। নেতাদের ওখানেই দেখা পাওয়া যেত। কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য চাইতে ওখানেই যেতেন। সিপিএমের আমলে ওটা ছিল লোকাল রাইটার্স।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৭৭ সালের পর থেকে শিরিষতলা ছিল কার্যত বামেদের দখলে। সেখানে বসে বাম নেতারা বহু সমস্যা মিটিয়েছেন। দিনের অধিকাংশ সময় বাম নেতাদের ওখানেই পাওয়া যেত। কারও চিকিৎসার প্রয়োজন পড়লে ওখানে বসেই নেতারা চিঠি লিখে দিতেন। শংসাপত্রও কমরেডদের সাইকেলে ঝোলান ব্যাগে ভরা থাকত। যা চাইলেই পাওয়া যেত। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মওলা বলেন, আমাদের সময় মানুষকে ছুটে বেড়াতে হয়নি। শিরিষতলাতে বসেই পরিষেবা পেয়েছেন। ওটা আমাদের আড্ডাখানা ছিল। ওখানে বসেই মানুষকে পরিষেবাও দেওয়া হতো। রাজনৈতিক রণকৌশল সংক্রান্ত আলাপ আলোচনাও হতো। শিরিষতলাতে প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তীর মতো অনেক মন্ত্রীরাও এসেছেন।
তবে সময়ের সঙ্গে শিরিষতলার ‘মালিকানা’ বদল হয়েছে। ২০০৪ সালের পর এলাকায় বামেদের ক্ষমতা হ্রাস পেলে তা কংগ্রেসের দখলে চলে যায়। বাম নেতাদের মতো কংগ্রেস নেতারাও সেখানে বসে পরিষেবা দিতেন বলে দাবি। কংগ্রেসের ভরতপুর ২ ব্লক সভাপতি জহিরুদ্দিন শেখ বলেন, শিরিষতলায় বসে শুধু মানুষের পরিষেবা দেওয়া হতো তাই নয়, ওখানে বসে রাজনীতির চর্চাও হতো। সন্ধ্যার পর বহু কর্মী সেখানে আসতেন। স্থানীয় সামাজিক সমস্যার সঙ্গে দেশ বিদেশের ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা হতো। বর্তমানে ওই এলাকা তৃণমূলের দখলে চলে গিয়েছে। এখন সেখানে সকাল সন্ধ্যে শুধু তৃণমূল নেতাকর্মীদেরই দেখা যায়। একসময় শিরিষতলার নীচে মাদুর বা ত্রিপল পেতে বসার ব্যবস্থা থাকলেও এখন সেখানে অনেককে প্লাস্টিকের চেয়ার বসে থাকতে দেখা যায়। তৃণমূলের ভরতপুর ২ ব্লক সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে সুমন বলেন, মানুষ যাতে সহজে পরিষেবা পান, সেই চেষ্টা আমরা করে থাকি। শিরিষতলা একটি ঐতিহ্যপূর্ণ এলাকা। সেখানে প্রচুর মানুষের যাতায়াত রয়েছে। তাই আমাদের দলের কর্মীরা শিরিষতলাতে বসেই মানুষের পরিষেবা দিয়ে থাকেন। তাই আজও সালারের বাসিন্দাদের কাছে শিরিষতলা হল ভরসাকেন্দ্র। সকাল থেকে সন্ধ্যা সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন তৃণমূলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। মানুষ সমস্যায় পড়লেই শিরিষতলায় ছুটে আসছেন। • এই সেই শিরিষ গাছ। -নিজস্ব চিত্র