নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় কি তবে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী বদলের পথে তৃণমূল? বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে তৃণমূলের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন সোমনাথ দত্ত। তিনি কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি তথা সাংসদ মহুয়া মৈত্র-র ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। সোমনাথবাবুর মনোনয়নপত্র জমা পড়তেই জেলাজুড়ে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল আগেই প্রার্থী হিসাবে অভিনব ভট্টাচার্যকে দাঁড় করিয়েছিল। তিনি ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন। ফলে শেষ দিনে সোমনাথবাবু আবার তৃণমূলের হয়ে মনোনয়ন জমা করায় ঘিরে রাজনৈতিক মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
যদিও এনিয়ে তৃণমূলের কোনো নেতৃত্ব মুখ খুলতে চাননি। তবে তৃণমূলের অন্দরে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে অভিনববাবুর হলফনামায় কিছু ত্রুটি থাকার আশঙ্কা থেকেই নাকি এই বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের পর যাতে দলকে বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়। সেজন্য ‘বিকল্প’ মুখ হিসেবে সোমনাথবাবুকে দিয়ে শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা করানো হয়েছে। যদিও এই ব্যাখ্যার কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি।
এবিষয়ে তৃণমূল প্রার্থী অভিনববাবু বলেন, সোমনাথবাবু আমার সঙ্গে কথা বলেই মনোনয়নপত্র দিয়েছেন। আমার মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল নেই। যদিও সোমনাথবাবু এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি। কৃষ্ণনগর উত্তর এমনিতেই তৃণমূলের জন্য এবার ‘সংবেদনশীল’ কেন্দ্রগুলির একটি। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রায় ৫৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। ফলে হারানো জমি ফিরে পেতে এই আসনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির। এই কেন্দ্রের প্রার্থীর করার জন্য উপযুক্ত মুখ খুঁজে পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল তৃণমূলকে। শেষ পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহ আগে তৃণমূলে যোগদান করা অভিনব ভট্টাচার্যকেই প্রার্থী করা হয়। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমে পড়েছিলেন অভিনববাবু। লাগাতার প্রচার, অঞ্চল ভিত্তিক কর্মিসভা, পাড়ায় পাড়ায় যোগাযোগ সব মিলিয়ে ইতিমধ্যেই বিধানসভার বড় অংশে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর শহরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিশাল মিছিলে তাঁকে দেখা গিয়েছিল চাপড়ার তৃণমূল প্রার্থী এবং কালীগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটতে। ফলে আচমকা তাঁর কেন্দ্রেই ‘দ্বিতীয়’ মনোনয়ন জমা পড়ায় প্রশ্ন উঠছে।