পাকা সেতু চাই, তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিসের কাছে দাবি বাসিন্দার
বর্তমান | ১১ এপ্রিল ২০২৬
সৌমিত্র দাস, কাঁথি: ঢালাই রাস্তা ধরে বাইকে চেপেই নেতা-কর্মীদের সঙ্গে গ্রামে ঢুকলেন প্রার্থী। একেবারে সামনে প্রচারের টোটোয় তখন বাজছে, ‘যতই কর হামলা, আবার জিতবে বাংলা’ সহ উন্নয়নের পাঁচালির গান। বৃহস্পতিবার উত্তর কাঁথি বিধানসভার দেশপ্রাণ ব্লকের দহসোনামুই এলাকায় উঁচু বাঁধ সংলগ্ন রাস্তার পাশে তখন শতাধিক নারী-পুরুষের .ভিড়। সীমাহীন উচ্ছ্বাসের আবহে শঙ্খধ্বনি ও পুষ্পবৃষ্টির মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হল উত্তর কাঁথির তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস ভুঁইয়াকে। এরপর মাইক্রোফোন ধরে প্রার্থী নিজের ঝাঁঝালো বক্তব্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য মানুষের আশীর্বাদ চাইলেন। সেইসঙ্গে এলাকাবাসীও প্রার্থীকে পেয়ে স্থানীয় খালের উপর পাকা সেতুর দাবি জানালেন।
দহসোনামুই এলাকা মৎস্যজীবী অধ্যুষিত। সমুদ্র ও নদীতে মাছ ধরে এলাকায় বড় অংশের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। স্থানীয় খালের উপর পাকা এই সেতু বছর তিনেক আগে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে কাঠের সাঁকোই ভরসা এলাকাবাসীর। প্রার্থী ও নেতাদের সামনে পেয়ে এলাকাবাসী পাকা সেতুর দাবি তোলেন এদিন। পাশাপাশি মৎস্যজীবীরা মৎস্যখটির পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানালেন।
ব্লক তৃণমূল সভাপতি, পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কৃষি কর্মাধ্যক্ষ ও আঁউরাই পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান দেবাশিসবাবু বললেন, আমাকে আশীর্বাদ করুন। আপনাদের সেবক হয়েই থাকব। এদিন বেলা ১০টা নাগাদ দারিয়াপুরের দৌলতপুরের শীতলা মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন প্রার্থী। এরপর দুর্গাপুর, কাজীচক, পূর্ব গোপীনাথপুর, ভগবানপুর, চৈতন্যপুর হয়ে দহসোনামুই। মাঝে বড়সুবর্ণনগর এলাকায় মিছিলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পা মেলান। রামচক-গোপালচক, হরিপুর, কানাইচট্টা ঘুরে এদিনের প্রচার শেষ হয়। কোথাও বাড়ি, বাড়ি প্রচার তো কোথাও পথসভায় ভোট প্রার্থনা করেন প্রার্থী। প্রচারে সঙ্গী দেশপ্রাণ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অমলেন্দু জানা, অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি দীপক গিরি, তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতা অজয় সাহুরা। প্রার্থীর কথায়, তৃণমূল সরকারের আমলে পথশ্রীতে রাস্তা, ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’, পানীয় জল থেকে শুরু করে প্রতিটি জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা মানুষ পাচ্ছেন। বিজেপি সরকার তো কিছুই করেনি মানুষের জন্য।
একুশের নির্বাচনে ৯ হাজার ৩৩০টি ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থী তরুণ জানাকে পরাজিত করে বিধায়ক হন বিজেপির সুমিতা সিনহা। তবে এবার তরুণের আসন বদলে গিয়েছে। তিনি দক্ষিণ কাঁথি কেন্দ্র থেকে লড়ছেন। সুমিতা উত্তর কাঁথিতেই ফের গেরুয়া প্রার্থী হয়েছেন। দেশপ্রাণ ব্লকের আটটি, কাঁথি-৩ ব্লকের ছ’টি ও এগরা-২ ব্লকের বাথুয়াড়ি পঞ্চায়েত নিয়ে উত্তর কাঁথি বিধানসভা গঠিত। দেবাশিসবাবু বলেন, প্রতিটি জায়গায় প্রচারে মানুষে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখে আমি অভিভূত। পাঁচ বছর যিনি বিধায়ক ছিলেন, এলাকা উন্নয়ন তহবিলের ৫৮ লক্ষ টাকা খরচাই করতে পারেননি!
যদিও বিজেপি প্রার্থী বলছেন, তৃণমূল সরকার এতদিন ক্ষমতায় থেকে কিছু করেনি বলেই তো মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন। প্রচারে গিয়ে অভূতপূর্ব সাড়া ও উৎসাহ লক্ষ্য করছি।