গেরুয়া শিবিরের ভোট কাটতে নির্দল হিসাবে মনোনয়ন দলেরই নেত্রীদের, গাইঘাটা ও বারুইপুর পশ্চিমে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে
বর্তমান | ১১ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা বনগাঁ ও বারুইপুর: বৃহস্পতিবারই ছিল দ্বিতীয় দফার ভোটে মনোনয়ন জমার শেষ দিন। সেদিনই পদ্মে বিভাজন প্রকাশ্যে এল। তাও আবার মতুয়াগড় গাইঘাটায়। গোষ্ঠীকোন্দলের জেরে টিকিট না পাওয়ায় নির্দল হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেন খোদ বিজেপির মহিলা মোর্চার প্রাক্তন সভানেত্রী তনিমা সেন। গেরুয়া শিবিরে ফাটলের ছবিটা শুধু গাইঘাটায় নয়, বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রেও স্পষ্ট। বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা আসনে এবার বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন বিশ্বজিৎ পাল। দলের প্রার্থীরই ভোট কাটতে ব্যালটযুদ্ধে নেমেছেন বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা মহিলা মোর্চার সহ সভাপতি মিঠু বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের নির্দল হিসাবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।
মনোনয়নপত্র জমা করে বিক্ষুব্ধ মিঠু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি দলের একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে কাজ করছি। তাই দলের কাছে টিকিট চেয়েছিলাম। কিন্তু দল আমাকে প্রার্থী করেনি। ফলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দল যাঁকে প্রার্থী করেছে, তাঁকে মেনে নিতে না পেরে অনেক কর্মী বসে গিয়েছেন। কিন্তু আমাকে মানুষ চেনেন, সমর্থন পাব বলেই আশা করছি। যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মনোরঞ্জন জোতদার বলেন, নির্দল প্রার্থীর বিষয়টি দল দেখছে।
এদিকে, বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল ও সিপিএম। বারুইপুর-পশ্চিমে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি গৌতম দাস বলেন, ‘বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা নেই মানুষের কাছে।’ মঙ্গলবার নমিনেশন জমা দিয়েছিলেন বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল। তিনি বলেন, ‘উনি আমার ডামি প্রার্থী হয়েছেন কি না, দেখব। দল তারপরে সিদ্ধান্ত নেবে।’ বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালকে ঘিরে একদল কর্মীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বারুইপুরে বিজেপির এক মহিলা কর্মী বলেন, বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর কোনো দেওয়াল লিখন আছে কি না, বোঝা যাচ্ছে না। দলের একনিষ্ঠ কর্মীদের দূরে সরিয়ে রেখে প্রার্থী নিজের মতো চলছেন।
বারুইপুর পশ্চিমের পর গাইঘাটাতেও দলের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী’ মহিলা মোর্চার প্রাক্তন সভানেত্রী। এদিন বনগাঁয় মহকুমা শাসকের দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। নির্বাচনে প্রার্থী হয়েই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি নেত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে দলে পরিবারতন্ত্র চলছে। ঠাকুরবাড়িতে আটকে গিয়েছে বিজেপি। সেই পরিবারতন্ত্রের অবসান করতেই তিনি নির্দল প্রার্থী হয়েছেন বলে দাবি করেন। যদিও তাঁকে পাত্তা দিতে নারাজ বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব। নেতাদের দাবি, তিনি কোনো একসময় পদে ছিলেন। তবে তাঁর এই মনোনয়ন দলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এ প্রসঙ্গে, বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘বিজেপি একটা উচ্ছৃঙ্খল দল। ওই দলে কেউ কাউকে সম্মান দেয় না। গোষ্ঠীকোন্দলে জেরবার। ভোটের পর দলটাই থাকবে না।’