নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোথাবাড়িকাণ্ডে মোফাক্কারুলের ফোনে আসা বেশ কিছু সন্দেহজনক কল এনআইএ’র নজরে। যার মধ্যে বিদেশ থেকে আসা কলও রয়েছে বলে খবর। ঘটনার আগে ও পরে কেন ঘন ঘন ফোন এসেছিল, সেটাই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা। তাঁর কল ডিটেইলস ঘেঁটে এই তথ্য পেয়েছেন তাঁরা। দুটি দেশের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন আধিকারিকরা। একইসঙ্গে ওই আইনজীবীকে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ অবস্থান-বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার নির্দেশ কে দিয়েছিলেন, তাঁকে চিহ্নিত করতে চাইছে এজেন্সি। তারা নিশ্চিত, শুধু এই আইনজীবী নন, ম্যাজিস্ট্রেটদের আটকে রাখা, তাঁদের গাড়িতে হামলার পরিকল্পনার ঘটনায় আরও অনেক বড় মাথা রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের নাম জানার চেষ্টা চলছে। এদিকে এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার এনআইআর বিশেষ আদালতে এফআইআরের কপি জমা করেছে এজেন্সি। জেলা পুলিশকে কেস ডায়েরি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর ১২টি কেস রুজু করেছে এনআইএ। খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধাদান, মারধর, ষড়যন্ত্র সহ একাধিক ধারা রয়েছে। বৃহস্পতিবার এনআইএর তরফে বিচারভবনে এফআইআরের বিশেষ আদালতে কপিগুলি জমা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির আইনজীবী আদালতে বলেন, মোথাবাড়িতে বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ চলছিল। সেখানে এসআইআরের কাজে যাওয়া বিচারকদের আটকে রাখা হয়। তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত হন বিচারকরা। কোনওক্রমে তাঁরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। আরও অনেক ঘটনা ঘটেছে। দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে এনআইএ তদন্তভার নিয়েছে। ৪৭ জন অভিযুক্ত পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। সেই কারণে মামলার কেস ডায়েরি চাওয়ার পাশাপাশি এনআইএ’র তরফে অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করা হয়। বিচারক জেলা পুলিশকে অবিলম্বে কেস ডায়েরি হস্তান্তর করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের ১৬ এপ্রিল এনআইএ আদালতে হাজির করার নির্দেশও দিয়েছেন। তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় এজেন্সির টিম পৌঁছেছে মোথাবাড়িতে। মোফাক্কেরুলের ঘনিষ্ঠ কারা, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে এজেন্সি। যাতে পরিকল্পনার নেপথ্যে কারা ছিল, আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, সেই বিষয়ে তথ্য মেলে।