বিকাশ বসুর খুনিকে ভোট দেবেন না, সভামঞ্চ থেকে আবেদন তৃণমূল সুপ্রিমোর
বর্তমান | ১১ এপ্রিল ২০২৬
সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, নোয়াপাড়া: বিকাশ বসু আমার খুব প্রিয় ছিল। ওকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। বিকাশ বসুর পরিবারের সঙ্গে আমি সবসময় ছিলাম, আজও আছি এবং ভবিষ্যতে থাকব। ওঁর স্ত্রীকে তিনবার বিধায়ক করা হয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছে। যে সময় দেওয়া দরকার, তিনি দিতে পারছেন না। তাই এক তরুণকে এবার প্রার্থী করা হয়েছে। তবে বিকাশ বসুকে যে খুন করেছে, তাঁকে আপনারা ভোট দেবেন না। নোয়াপাড়ার মাটি, সোনার মাটি, এই মাটিতে গুন্ডা আমদানি করবেন না। পলতা শান্তিনগর হেল্থ সেন্টারের মাঠে বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ভাষাতেই বক্তব্য রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বললেন, বিকাশকে যে খুন করেছে, সে সিপিএমের পা ধরে বেঁচে গিয়েছে। বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে লোক নিয়ে এসে খুন করানো হয়। এই রাজনীতি বন্ধ করার জন্য তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান মমতা।
এদিন সভা থেকে জয় বাংলা স্লোগান প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ২০১৯ সালের পর অশান্ত নৈহাটিতে আমি যখন এসেছিলাম। আমাকে অনেক কটু কথা বলা হয়েছিল। তখন আমি আচমকা জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছিলাম। সেই থেকে শুরু জয় বাংলা স্লোগানের।
ভোর থেকে বৃষ্টি হওয়ায় নোয়াপাড়ার তৃণমূল নেতাদের কপালে ভাজ পড়ে যায়। বৃষ্টি থামলে তৎপরতার সঙ্গে মাঠে ইট, বালি ফেলে সামাল দেওয়া হয়। এগারোটা থেকে তৃণমূল কর্মীরা আসতে শুরু করেন। মহিলাদের ভিড় ছিল দেখার মতো। হাজির ছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষ। তারা ঢাক ঢোল বাজিয়ে সভাস্থল জমিয়ে দেন। বেলা ১১টা নাগাদ পার্থ ভৌমিক সভাস্থলে এসে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন। বক্তৃতায় বলেন, সকলের প্রিয় বিকাশ বসুর খুনিকে আপনারা ভোট দেবেন? বিকাশ বসুকে খুন করার অভিযোগের যিনি জেল খেটেছেন তাঁকে ভোট দেবেন? উপস্থিত জনতা সমস্বরে জবাব দেন, না।
মিনাখাঁয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে নোয়াপাড়ায় সভা শুরু হয়ে যায়। সভাপতিত্ব করেন মলয় ঘোষ। বক্তব্য রাখেন প্রদীপ বসু, গৌতম বসু, নির্মল কর, অরুণ ঘোষ প্রমূখ। মঞ্চে তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম, সুবোধ অধিকারী, সনৎ দে, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং রাজ চক্রবর্তী সঙ্গে সকলের পরিচয় করিয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য তৃণমূলকে ভোট দিন। আমরা কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে এবং উৎস ধারা প্রকল্প রূপায় করেছি। একবার দেখে এসে ভোট দিন। ৫০ মিনিটের বক্তৃতায় বারবার তিনি বিকাশ বসুকে স্মরণ করেন। মোদি অমিত শাহকে আক্রমণের পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়ন তুলে ধরেন তিনি।