সহযোদ্ধাদের সব খবর রাখেন মমতার বার্তায় উচ্ছ্বসিত কর্মীরা
বর্তমান | ১১ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রাজনীতির উথালপাথাল সময়েও তিনি ভুলে যাননি পুরানো দিনের সহযোদ্ধাদের। আজও তিনি খবর রাখেন এলাকার সমস্ত ছোটোখাটো ঘটনারও। পানিহাটির সভায় দলনেত্রীর মুখ থেকে সেই বার্তা পেয়ে উজ্জীবিত, উদ্বেলিত তৃণমূল কর্মীরা। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পানিহাটির উষুমপুর খেলার মাঠের সভায় উঠে প্রথম তিনি খড়দহের প্রাক্তন বিধায়ক কাজল সিনহার প্রসঙ্গ তোলেন। কাজলবাবু করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। নেত্রী বলেন, ‘বেচারা কাজলটা নির্বাচনে জিতেও খবরটা পেল না। নির্বাচনে লড়েই মারা গিয়েছিল। আপনারা জানেন। তার জন্য আজও আমার কষ্ট হয়।’
স্বয়ং দলনেত্রীর মুখ থেকে কাজল সিনহার কথা শুনে খড়দহ ও পানিহাটির বহু পুরানো কর্মী উচ্ছ্বসিত। তাঁরা বলছেন, দিদির এত কাজের চাপ, কেন্দ্রীয় সরকারের ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের মধ্যেও তিনি দলের লড়াকু কর্মীদের কথা ভোলেন না। এদিন তিনি পানিহাটির বর্ষীয়ান নেতা নির্মল ঘোষকে পাশে ডেকে নেন। বলেন, নির্মলদা আমাদের সিনিয়র লিডার। তিনি বিধায়ক ছিলেন। আমি চেয়েছিলাম নির্মলদা দাঁড়ান। কিন্তু নির্মলদা ঠিক করেছেন, তিনি আর পারছে না। তাই তাঁর ছেলেকে দিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তীর্থঙ্কর পানিহাটির প্রার্থী। তাকে বিপুল ভোটে জেতাতে হবে। প্রতিটি আসন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সব কাউন্সিলার, চেয়ারম্যান ও প্রার্থী রয়েছেন। বিশেষ করে নির্মল ঘোষের মতো সিনিয়র নেতাও রয়েছেন। আমি একটা পরিষ্কার মেসেজ দিতে চাই, তৃণমূল করতে গেলে সবুজ ধ্বংস করা যাবে না। মাঠ দখল করা যাবে না। পুকুর ভরাট করা যাবে না। আমি পানিহাটিতে মাঠ প্রোমোটিংয়ের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কেউ যদি ভাবেন আমি নবান্নে বসে খবর রাখি না, তবে ভুল ভাবছেন। আমি বাংলার প্রতিটি ইঞ্চির খোঁজ রাখি। নেত্রীর সাফ কথা, যাঁরা লোভ বা জবরদস্তি করবেন, তাঁদের জন্য তৃণমূল নয়। এটা বিজেপি করে।
এরপর মঞ্চের নীচে থাকা দলীয় কর্মীদের দিকে আঙুল তুলে বলেন, মনে রাখবেন বুথ সামলানো তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরাই আমার সম্পদ। আমি আজও নিজেকে একজন কর্মী এবং সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। আমার ধর্ম একটাই—মনুষ্যত্ব ও মানবিকতা। আমি রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ এবং বাংলার মাটি ও জলকে বিশ্বাস করি।
মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বিরোধীদের জিজ্ঞাসা করুন, দক্ষিণেশ্বর-নোয়াপাড়া মেট্রো বা স্কাইওয়াক কে করেছে? সুন্দর স্কাইওয়াকে লাইট ও সাউন্ডের ব্যবস্থা করেছি। তিনি উত্তর শহরতলির লাইফ লাইন হিসেবে গড়ে ওঠা কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের প্রসঙ্গও তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ কত সহজে নদীয়া বা ইসকন পৌঁছে যাচ্ছেন সবাই। নৈহাটির বড়োমা মন্দির হোক বা কোনো শহরে কত দ্রুত পৌঁছানো যাচ্ছে। বিরোধীদের উদ্দেশে জননেত্রীর প্রশ্ন, এটা কার অবদান? তৃণমূল সূত্রের খবর, এদিন সভা শেষ করে যাওয়ার সময় পানিহটি নেতৃত্বকে ভোকাল টনিকও দিয়ে যান নেত্রী। দলের অন্যতম গড়ে বিপুল ভোটে প্রার্থীকে জেতাতে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন তিনি।