• তরুণ তুর্কি দেবাংশু যেন ‘ঘরের ছেলে’ প্রতিদ্বন্দ্বীরা ভোটের ময়দানে অনভিজ্ঞ
    বর্তমান | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দুই প্রজন্মের লড়াই। হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়া বিধানসভার ‘ভোটযুদ্ধ’কে এমনই শব্দবন্ধে বাঁধা যায়। এখানে তিন প্রবীণের প্রতিদ্বন্দ্বী এক সবুজ, সতেজ নবীন। তরুণ তুর্কির কাছে অভিজ্ঞতা আর রাজনৈতিক ব্যপ্তি, দুটিই ভরপুর। চুঁচুড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস নবীন প্রজন্মের নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করেছে। বিজেপি এবং বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন যথাক্রমে সুবীর নাগ ও সুনীল সাহা। কংগ্রেস প্রার্থীও প্রবীণ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, প্রবীণরা সকলেই ভোট ময়দানে নবীন। আর দেবাংশু ইতিমধ্যেই লোকসভা নির্বাচন লড়ে এসেছেন। ব্যতিক্রমী সমীকরণের মতো, চুঁচুড়া এবার অভিজ্ঞ নবীনের সঙ্গে অনভিজ্ঞ প্রবীণদের লড়াইয়ের নজরকাড়া মঞ্চ।

    বিজেপির সুবীর নাগ দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি। কর্মীদের কাছে তিনি প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। শোনা যাচ্ছে, লকেট এবারও চুঁচুড়ায় লড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনোভাবে তা সম্ভব না হওয়ায় নেত্রীর মান রাখতে তাঁরই ঘনিষ্ঠ সুবীরকে এখানে প্রার্থী করা হয়েছে। ফলে, দলের নীচুতলার কর্মীদের একাংশ না-খুশ। সুবীর অবশ্য বলেন, আমার দক্ষতা আছে, তাই অপপ্রচার থাকবেই। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হল, মানুষ কী চাইছেন। তাঁরা অপশাসন, অনাচার থেকে মুক্ত হতে পদ্মপ্রতীকের পাশে থাকবেন। ফরওয়ার্ড ব্লকের সুনীল সাহা, সুশীল সমাজের মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি ইনচার্জ ছিলেন। পুঁথির রসায়নটা বোঝেন। কিন্তু ভোট-রসায়ন? না, ঩তেমন চর্চা নেই। তবে তিনি ছুটছেন, বামকর্মীরাও পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। ভালো মানুষ হিসাবে চর্চা আছে। সুনীলবাবু বলেন, মানুষের অন্তরের সমীকরণটা আমি জানি। সেটাই ভরসা। চুঁচুড়ার কংগ্রেস প্রার্থী মইনুল হক। আগমার্কা কংগ্রেসি। যুদ্ধের জন্য তাঁর ‘ঢাল-তরোয়াল’ কতটা তৈরি, সন্দেহ আছে রাজনৈতিক মহলের। মইনুল বলেন, সংবিধান-গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে আমরাই বিশ্বস্ত সৈনিক।

    এমনতর প্রবীণ-কথকতার মাঝে দেবাংশু তরতজা, ঝলমলে। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির তালুকে লোকসভার হাই-ভোল্টেজ লড়াই সেরে এসেছেন। ছাত্র রাজনীতি ছুঁয়ে কার্যত দলের সর্বক্ষণের কর্মী। ঘাসফুল শিবিরের চর্চা, তাঁর মাথায় যুগপৎ মমতা-অভিষেকের হাত আছে। আধুনিক সময়ের এই তরুণ সামাজিক সম্পর্ক রাখতে দক্ষ, সামাজিক মাধ্যমেও জনপ্রিয়। কইয়ে-বলিয়ে নেতা বাকযুদ্ধে তুখোড়। তাই বিভিন্ন বিতর্কে তিনি দলের প্রশ্নহীন মুখ। একদা ভোট লড়াইতে তুফান তুলেছিল তাঁর গান, ‘খেলা হবে’। এবার, তিনি শুধু চুঁচুড়ার ভোটপ্রার্থী নন, দলের ঘোষিত ‘তারকা প্রচারক’ও। ফলে, ধার ও ভারের সমীকরণ সহজ। মাঝে মাঝে কপালের চুল সরিয়ে দেওয়া তাঁর মুদ্রাদোষ। তরুণ নেতা নিষ্পাপ হাসি ও শাণিত কটাক্ষে সমান উজ্জ্বল। তাঁকে দেখে মনে হয়, তিনি যেন ‘ঘরের ছেলে’। দেবাংশুর কথায়, আমি কেউ নই। চুঁচুড়ার লড়াই বাংলাকে অসম্মানের জবাব দেওয়ার, স্বপ্নের চুঁচুড়া গড়ার। সেই লড়াইয়ে নেত্রী (মমতা) ও সেনাপতির (অভিষেক) জয় হবেই। পড়ন্ত বিকালের রোদ আর ঘড়ির মোড়ে রাজকীয় ঘড়ি পিছনে রেখে এগিয়ে যান দেবাংশু। পড়ে থাকে ছায়া। বড়ো দীর্ঘ তার আকার। 
  • Link to this news (বর্তমান)