নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া সদরের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের আগে দেওয়ালই হয়ে উঠেছে কাব্যপাঠের মঞ্চ। রং-তুলি আর ছড়ায় শাসক-বিরোধী তরজা। ভোটযুদ্ধের পাশে জমে উঠেছে ‘ছড়া যুদ্ধ’ও। তবে এই লড়াইয়ে জোড়াফুলের কলম যেন খানিক বেশি তীক্ষ্ণ। সেই তুলনায় পদ্মশিবিরের কালি কিছুটা ম্লান বলেই মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা।
মধ্য হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ছে একের পর এক ছড়া, যেখানে বিজেপিকে আক্রমণ করা হয়েছে কটাক্ষ, রসিকতার মোড়কে। ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে একটি দেওয়ালে লেখা- ‘সাদা দাড়ি চশমাধারী ধরেছে যে বায়না, এবার তাকে দিতে হবে এই সোনার বাংলা, মানুষ অত বোকা নয় তোমায় দেবে বাংলা, জাতের নামে বজ্জাতি এই বাংলা চায় না’। পথচলতি মানুষের নজর কেড়েছে এই ছড়া। আরেকটি দেওয়ালে আবার সতর্কবার্তার সুর- ‘বাংলা জাগো বাঙালি জাগো বর্গি আসছে দেশে, শান্ত বাংলা সোনার বাংলা ধ্বংস করবে শেষে, তাইতো বলি এখন থেকে চিন্তা করুন ভাই, এই বাংলায় মমতাদির বিকল্প কেউ নাই।’ ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগকে সামনে রেখে লেখা ‘রাম গেল দুগ্গা গেল এবার এলো কালী, ভাঁওতাবাজ বিজেপি হবে বাংলা থেকে খালি’- তৃণমূলের এই ছড়াটিও এখন এলাকায় বেশ জনপ্রিয়।
মধ্য হাওড়া তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পিন্টু মণ্ডল বলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে ভোটের ছড়া লিখছি। এবারের দেওয়াল লিখনেও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা আর আবেগই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। মানুষ বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি মানতে নারাজ। ভোটের ফলেও তারই প্রতিফলন দেখা যাবে।
শুধু মধ্য হাওড়া নয়, ডোমজুড়েও ব্যঙ্গের সুরে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। ‘বিজেপিতে দিলে ছাপ, ঘরে ঢুকবে কেউটে সাপ’- এই ছোট্ট ছড়াই হাসির আবরণে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। অন্যদিকে শিবপুরে দেওয়ালে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার কথাও- ‘রান্নাঘরে কাঁদছে মা, এই বিজেপি আর না’। এছাড়াও ‘৮০ টাকার হাওয়াই চটি, ৩০০ টাকার শাড়ি, ১০ লাখের ওই স্যুটের থেকে অনেক বেশি ভারী’- যেখানে মূল্যবৃদ্ধি ও বৈষম্যের ইস্যুকে তুলে ধরা হয়েছে তির্যক ভঙ্গিতে।
পাশাপাশি এসআইআর সংক্রান্ত ক্ষোভও ধরা পড়েছে ‘কোথায় তোমার রোহিঙ্গা কোথায় বাংলাদেশি, এসআইআর-এর অত্যাচারে জ্বলছে বঙ্গবাসী’ ছড়ায়। অন্যদিকে, বিজেপির দেওয়ালে ছড়া তুলনামূলকভাবে অনেকটাই সীমিত। ‘১৫ বছর চোরকে দিলেন, ৩৫ বছর বাম, পাঁচটা বছর দিয়ে দেখুন, কেমন রাখে রাম’- এই পুরনো স্লোগান ছাড়া নতুনত্ব তেমন চোখে পড়ছে না। কোথাও কোথাও ‘রুটি আর সরকার, দুটোই উল্টানো দরকার’ বা ‘বলছে এবার জনতা, নো ভোট টু মমতা’- এই ধরনের ছড়া দেখা গেলেও তা সংখ্যায় কম। বিজেপির দাবি, দেওয়াল লিখনের চেয়ে জনসংযোগেই বেশি জোর দিচ্ছে তারা।
যদিও তৃণমূলের খোঁচা, অভিনব ভাবনার অভাবেই মিছিলের মতোই বিজেপির দেওয়ালও ফাঁকা। সব মিলিয়ে, হাওড়ার দেওয়ালগুলো এখন শুধু রঙিন নয়, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে ভরপুর।