‘সারা বাংলা ঘুরতে হবে না, উন্নয়ন দেখতে নিউটাউন-রাজারহাটে যান’
বর্তমান | ১১ এপ্রিল ২০২৬
অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: বাংলাকে লাগাতার আক্রমণ এবং বাংলার অসম্মানের প্রতিবাদে বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে তুলে ধরলেন তৃণমূল সরকারের একঝাঁক উন্নয়নের কথা। সেই উন্নয়ন দেখার জন্য বৃহস্পতিবার বাগুইআটির জনসভা থেকে তিনি বলেন, ‘সারা বাংলা ঘুরতে হবে না, শুধু নিউটাউন-রাজারহাট ঘুরে আসুন। দেখুন কী কী উন্নয়ন হয়েছে। কোনটা করা হয়নি। যে মেলা গ্রাউন্ড ছিল, সেটা বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণ করা হয়েছে। ইকোপার্ক, মিউজিয়াম কী হয়নি। এবার ২০ লক্ষ লোক দাঁড়ানোর জায়গা করছি। আন্তর্জাতিক শিল্পীরা অনুষ্ঠান করতে পারবেন। সংখ্যালঘুদের জন্য অনেক উন্নয়ন হয়েছে। হজ হাউস হয়েছে। আমরা নিউটাউনে দুর্গাঙ্গন করেছি। জৈনদের জমি দিয়েছি। আইটি পার্ক করেছি। ৩০ হাজার চাকরি হয়েছে। এডুকেশন ইন্ডাস্ট্রি হাব করা হয়েছে। নিউটাউনে আরও কাজ হচ্ছে। রাস্তাঘাট দেখুন। আলো দেখুন। সাজিয়ে দিয়েছি। আমি সাতবারের সাংসদ ছিলাম। আগে এয়ারপোর্ট পৌঁছানোর জন্য এক ঘণ্টা সময় লাগত। এখন মাত্র ২০ মিনিটে পৌঁছে যাই। ফ্লাইওভারের পর ফ্লাইওভার। নিউটাউন দিয়ে কিংবা বাগুইআটি ফ্লাইওভার দিয়ে যাওয়া যায় বিমানবন্দরে।’
বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘বিজেপি এখন ধর্ম শেখাচ্ছে। ওদের ধর্ম তো দাঙ্গা। সবাইকে নিয়ে চলাই আমাদের ধর্ম। দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের বিরুদ্ধে কারা মামলা করেছিল? তোমরা সোনার বাংলা গড়বে? সোনার বাংলার লোকজন যখন অন্য রাজ্যে যায়, তখন মারধর কর! টেলিপ্রম্পটার নিয়ে বাংলা বলতে হয় তোমাদের। যিনি বন্দেমাতরম্ লিখেছেন, সেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বলছে, ‘বঙ্কিমদা’! রবীন্দ্রনাথ, নেতাজিকে অসম্মান করছে। গান্ধীজির নাম প্রকল্প থেকে মুছে দিচ্ছে।’
এদিন বিকালে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের অন্তর্গত বাগুইআটির ৪৪ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে মমতার জনসভা ছিল। সভা শুরুর ২ ঘণ্টা আগেই হাজার হাজার মানুষের ভিড় উপচে পড়ে রাস্তায়। কাঁসর, ঘণ্টা নিয়ে হাজির ছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকজন। সভায় হাজির ছিলেন রাজারহাট-গোপালপুর, বিধাননগর ও রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূল প্রার্থী যথাক্রমে অদিতি মুন্সি, সুজিত বসু এবং তাপস চট্টোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অদিতি আমার প্রিয় প্রার্থী। ওর ছোট্ট সন্তান আছে। তাই এবার প্রার্থী হতে চাইছিল না। আমিই ওকে প্রার্থী করেছি। এবারের নির্বাচন অন্যরকম। বাংলার জন্য বিজেপি হ্যাংলা হয়ে গিয়েছে। আপনারা একটি ভোটও নষ্ট করবেন না। সব ভোট তৃণমূলকেই দেবেন।’
বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘আগে বলত, মমতাদি বাংলায় দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজো করতে দেয় না। আসলে গদ্দাররা কানে কানে যা বলে দেয়, ওরা সেটাই বলে। খোঁজও করে না। বিচুটি পাতা দিয়ে আজকাল দারুণ ফেসিয়াল হচ্ছে। একটু মেখে দেখবেন নাকি দিল্লির জমিদাররা?’