মমতাকে একবার কাছ থেকে দেখার জন্য, একবার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা জন্য, ক্যামেরায় একটি ফটো তোলার জন্য, হুড়োহুড়ি-উন্মাদনা-মাত্রাছাড়া উৎসাহ। মানুষের আবদার মেটাতে কয়েকবার থমকাতে হল মমতাকে। সকলের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস দেখে নতজানু হয়ে অভিবাদন জানালেন কখনও, কখনও দু’হাত তুলে অভিনন্দন জানালেন, কখনও মিশে গেলেন জনসমুদ্রে। বৃহস্পতিবার জনপ্লাবনের এ ছবি দেখে বিস্মিত দলের পুরনো কর্মীরাও। তাঁরা বলছেন, ‘এটাই মমতা ম্যাজিক। সময়ের সঙ্গে যা বেড়েই চলেছে।’
বৃহস্পতিবার বরানগরের ডানলপ মোড় থেকে সিঁথির মোড় পর্যন্ত ছিল পদযাত্রা। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য তা একটু দেরিতে শুরু হয়। কিন্তু রাস্তায় বহু আগে থেকেই মানুষের ঢল। ডানলপ মোড়ে ৩টে ৫৬ মিনিট নাগাদ পৌঁছন মমতা। ততক্ষণে জনপ্লাবন হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো সিঁথির মোড়ের দিকে যত এগিয়েছেন ততই বেড়েছে মানুষের সংখ্যা। চার জায়গায় পুলিশের নিরাপত্তা বলয় টপকে দুই যুবক ও দুই যুবতী পৌঁছে যান দলনেত্রীর কাছে। কেউ মাটিতে লুটিয়ে পায়ের ধুলো নিতে চান, কেউ হাত মেলান। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সহেলি দত্ত স্কুলের ব্যাগ কাঁধে হাজির ভিড়ের মাঝে। তার হাতে ফুল। মরিয়া হয়ে সেও এগিয়ে যায়। তার হাত থেকে ফুল নিয়ে মাথায় স্নেহের ছোঁয়া দেন মমতা। এক গৃহবধূ ঝুঁকি নিয়ে ডিভাইডার টপকে হাতে তুলে দেন ফটো ফ্রেম। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ উপেক্ষা করে প্রত্যেককে অভিবাদন জানান বাংলার প্রাণাধিক প্রিয় জননেত্রী।
তৃণমূলের থিম সং, মহিলা বাদকদের ঢাকের বোল, সাঁওতালি নৃত্যের সঙ্গে তাল মেলাতে দেখা অনেককে। পদযাত্রায় পা মেলান হিন্দু সাধু, মুসলমান মৌলবি, শিখরা, মতুয়া ধর্মাবলম্বীরা। রাস্তার দু’পাশে বহুতলগুলির ছাদ, জানলায় ভিড়। সবাই নমস্কার জানান জননেত্রীকে। কেউ মুষ্টিবদ্ধ হাত দেখিয়ে লড়াইয়ে পাশে থাকার বার্তা দেন। মমতা কখনও মাথা ঝুঁকিয়ে পাল্টা অভিবাদন জানান। কখনও হাত নেড়ে অভিভাবদন, কখনও দু’হাত তুলে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন, কখনও প্রতি নমস্কার।
আড়াই কিমি রাস্তা পেরতে লাগে ৪০ মিনিট। ভিড়ের কারণে ঘোষপাড়া মোড়, টবিন রোড, এনআইওএইচ গেট সহ একাধিক জায়গায় দাঁড়ান মমতা ভিড়ের চাপে শিশু কোলে বেসামাল গৃহবধূকে রক্ষা করেন। শিশুর মাথায় স্নেহচুম্বন দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার পথ করে দেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বললেন, ‘এই হল ম্যাজিক। এ দেশে এ জাদু দিদিরই শুধু আছে।’
মমতাকে একবার কাছ থেকে দেখবেন বলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে খাদ্য সরবরাহ সংস্থার কর্মী শুভজিৎ দাস। বললেন, ‘দু’ঘণ্টা দাঁড়ালাম ঠিকই কিন্তু ওঁর লড়াইয়ের জন্য সেলাম না জানিয়ে যাব না।’ আড়াই কিমি পথে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তা কর্মী থেকে রিকশ চালক, অফিসের বড়োবাবু থেকে পানের দোকানদার, গৃহবধূ থেকে ম্যানেজমেন্ট কর্মী, সবার মুখে সেলাম জানানোরই প্রতিধ্বনি।