• মতুয়াগড় বনগাঁয় বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ ৮০ শতাংশ, রোহিঙ্গা কোথায়? প্রশ্ন ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের
    বর্তমান | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা অধরা! বিচারাধীন ভোটার তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই ভয়ঙ্কর উদ্বেগের চিত্র মতুয়া মহল্লায়। বিচারাধীন ভোটারের ৮০ শতাংশ নাম বাদ যাওয়ায় মতুয়াগড় বনগাঁয় ছড়িয়েছে উৎকণ্ঠা। সেই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভও ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে প্রক্রিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়াতেই উলটে বাদ পড়ছেন প্রকৃত ভোটারা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী খসড়া তালিকায় বাদ গিয়েছিল ৩৬ হাজার ৯০১ জনের নাম। পরবর্তী পর্যায়ে চারটি বিধানসভা এলাকায় মোট বিচারাধীন ভোটার ছিল ৬১ হাজার ৪৮০ জন। সেই তালিকা খতিয়ে দেখার পর দেখা গিয়েছে, বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে ৪৮ হাজার ৪৯৩ জন ভোটার ‘অযোগ্য’ বলেই চিহ্নিত হয়েছে। মাত্র ১২ হাজার ৯৮৭ জন যোগ্য ভোটার হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন। সবমিলিয়ে খসড়া ও বিচারাধীন—দুই পর্যায়ে বনগাঁ মহকুমায় মোট ৮৫ হাজার ৩৯৪ জন ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। 

    কোন বিধানসভায় কত নাম বাদ বনগাঁতে? সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, বাগদা বিধানসভায় মোট বিচারাধীন ভোটার ছিলেন ১৩৪৫৯ জন। এর মধ্যে বাদ পড়েছে ১০ হাজার ১৭ জনের নাম। বনগাঁ উত্তরে বিচারাধীন ছিল ১২২৯৬ জন। বাদ গিয়েছে ৮ হাজার ২৮০ জন। বনগাঁ দক্ষিণে ১৩ হাজার ৪৪৭ জনের মধ্যে অযোগ্য ভোটার ১০ হাজার ৫৫৮ জন। সবথেকে ভয়ংকর উদ্বেগের চিত্র কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা মতুয়া সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের বাসস্থান, গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের। এখানে ২২ হাজার ২৭৮ জন ছিলেন বিচারাধীন। আর সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের নির্বাচন কমিশন ১৯ হাজার ৬৩৮ জনকে অযোগ্য ভোটার বলে দেগে দিয়েছে। আর গোটা বনগাঁ মহকুমায় বাদ যাওয়া ভোটারের সিংহভাগ মতুয়া সম্প্রদায়ের। তাদের এখন ‘শেষ ভরসা’ ট্রাইবুনালে আবেদন! বহু পরিবারে একাধিক সদস্যের নাম একসঙ্গে বাদ পড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। চাঁদপাড়ার প্রভা হালদার, বাগদার হেমেন বালা এবং বনগাঁর কেশব ঠাকুরের মতো বেনাগরিক হওয়ারা বলছেন, আমরাই তাহলে রোহিঙ্গা। আমাদের কথাই বলছিলেন শান্তনু ঠাকুর! 

    প্রসঙ্গত, প্রতিবার ভোটের সময় নিশ্চিত নাগরিকত্বের আশ্বাস মেলাটা মতুয়াগড়ের রুটিন হয়ে উঠেছিল। সিএএ’র নামে একপ্রকার ‘খুড়োর কল’ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একের পর এক নির্বাচনে বিজেপিকে ভরসা করেছে মতুয়া সমাজের বড় অংশ। উজাড় করে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন মতুয়ারা। কিন্তু এখন দুরাবস্থার শেষ নেই তাঁদের। এনিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, মতুয়াদের জীবন বিপন্ন করেছে বিজেপি। আমরা প্রথম থেকেই বলেছি এসআইআরে মতুয়ারা বিপর্যস্ত হবেন। আর সেটাই হল।  অন্যদিকে বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ অবশ্য নাম বাদ যাওয়ার দায়ভার তৃণমূলের দিকে ঠেলছেন। তাঁর যুক্তি, তৃণমূলের বিএলওরা পরিকল্পনা করে নাম বাদ দিয়েছেন। এবারের মতো ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হওয়া সত্ত্বেও, ফের বিজেপি নেতার দাবি, কোনো মানুষের নাম বাদ যাবে না!
  • Link to this news (বর্তমান)