• অনলাইনে ঋণ দেওয়ার নাম করে কোটি টাকার প্রতারণায় গ্রেপ্তার ৭
    বর্তমান | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কয়েক কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। পার্ক স্ট্রিটে কল সেন্টার খুলে চলছিল এই জালিয়াতি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সাতজনকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করল পার্ক স্ট্রিট থানা। উদ্ধার হয়েছে ৭০টির বেশি মোবাইল। পার্ক স্ট্রিটের ওই অফিসটি সিল করে দিয়েছে থানা।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্যামবাজার এলাকার এক বাসিন্দা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর চিকিৎসার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের দরকার পড়ে। তাই রোগীর পরিবার ঋণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছিলেন। তখন তাঁদের অনলাইনে একটি অ্যাপ নজরে আসে। তাতে বলা হয়েছিল কোনওরকম নথি ছাড়াই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঋণ মিলবে। সেই অ্যাপে ঢোকার পর তাঁদের কিছু নথি চাওয়া হয়। রোগীর পরিবারের সদস্যরা সেগুলি দেন। তারপর তাঁদের ফোন করে বলা হয়, নথিতে কিছু গোলমাল রয়েছে। সেগুলি ঠিক করতে হবে এবং প্রসেসিং ফি বাবদ তিরিশ হাজার টাকা লাগবে। ঋণের আশায় ওই রোগীর পরিবার এই টাকাও দিয়ে দেন। কিন্তু তারপরেও টাকা পাননি তাঁরা। 

    এরপর বৃহস্পতিবার তাঁদের সংস্থাটির পার্ক স্ট্রিটের অফিসে আসতে বলা হয়। সেখানে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বলা হয়, ঋণ মিলবে না। তখন প্রসেসিং ফির জন্য নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া হলেও তারা তা দেয়নি বলে অভিযোগ।

    এরপরই ওই পরিবার পার্ক স্ট্রিট থানায় এসে লিখিত অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ জালিয়াতি, প্রতারণার কেস রুজু করে। রাতেই পার্ক স্ট্রিটের ওই অফিসে হানা দিয়ে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অফিসের মালিক সহ সাতজনকে। বাজেয়াপ্ত করা হয় ৭০টির বেশি ফোন সহ বিভিন্ন সামগ্রী।

    তদন্তে নেমে পুলিশ জেনেছে, ঋণ দেওয়ার নাম করে অ্যাপ খুলে তারা অনেকদিন ধরেই প্রতারণার ব্যবসা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে প্রসেসিং ফি বাবদ নেওয়া মোটা টাকা তারা ফেরত দিত না। এই কায়দায় তারা কয়েক কোটি টাকা প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ। এই অফিসে একাধিক তরুণ-তরুণীকে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁদের দিয়ে ফোন করানো হতো ঋণের জন্য যোগাযোগকারী ব্যক্তির সঙ্গে। পরে তাঁদের জমা দেওয়া নথি ত্রুটিপূর্ণ বলে জানানো হতো। সেগুলি ঠিক করে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। এই টাকা যে সমস্ত অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে, তার তথ্য জোগাড় করেছেন তদন্তকারীরা। অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করে দেওয়ার জন্য ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)