স্কুলে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার পথে গাড়িতে গণধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ
বর্তমান | ১১ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক বেসরকারি স্কুলে চাকরির ইন্টারভিউ ছিল। দূর সম্পর্কের এক দেওর বউদিকে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছিল সেখানে। মাঝে হেস্টিংস থানা এলাকায় গাড়ির মধ্যেই তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনা ভিডিয়ো করে মহিলাকে দেখানোর পর ব্ল্যাকমেইলেরও অভিযোগ ওঠে। পরে সেটি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় জামশেদপুরে। সেখানেও তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে হেস্টিংস থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন মহিলা। মহিলার দাবি, হেস্টিংস এলাকায় গাড়ির মধ্যেই তাঁকে ধর্ষণের আগে নরম পানীয় খাওয়ানো হয়েছিল। তারপর তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়লে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে গণধর্ষণের কেস রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে থানা। দুই অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।
পুলিশ সূত্রে, ওই দেওরই বউদিকে শিক্ষক নিয়োগের খবর দিয়েছিল। বলেছিল, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তাঁর চাকরি হয়ে যাবে। তবে ইন্টারভিউ দিতে হবে। তার কথামতো ওই মহিলা গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল ওই দেওর। সে বউদিকে একটি গাড়িতে তোলে। ওই গাড়িতে তখন বসেছিল এক যুবক। গৃহবধূ তরুণীর দাবি, হেস্টিংস এলাকায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে তাঁকে কোল্ড ড্রিঙ্ক খাওয়ানো হয়। তারপর তাঁর বেশ কিছুক্ষণ জ্ঞান ছিল না। এই সুযোগে তারা দু’জন তাদের লালসা মেটায়। তরুণী অভিযোগে বলেছেন, তাঁকে গণধর্ষণের ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে অভিযুক্তরা। তাঁর দাবি, ওই ভিডিয়ো ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে জামশেদপুরে যেতে বাধ্য করা হয়। সেখানে তাঁকে একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অন্য দুই যুবক তাঁকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ। বাড়ি ফিরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা কী হয়েছে জানতে চাইলে, তিনি গোটা ঘটনা খুলে বলেন। এরপর লালবাজার ও কলকাতা পুলিশের ডিসি অফিসে তিনি অভিযোগপত্র পাঠান। সেটি হাতে পাওয়ার পর হেস্টিংস থানা বুধবার মামলা রুজু করেছে। অভিযোগ পত্রে দূর সম্পর্কের ওই দেওর ও আরও একজনের নাম রয়েছে। গৃহবধূর মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁকে দিয়ে যৌন ব্যবসা করানোই উদ্দেশ্য ছিল অভিযুক্তদের। সেকারণে তাঁকে জামশেদপুর নিয়ে দুই যুবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।