• ইনফিলট্রেশনের দায় কার! অনুপ্রবেশ ইস্যুতে শাহকে পহেলগাম তোপ অভিষেকের
    এই সময় | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: বাংলায় এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে অনুপ্রবেশই যে প্রথম ও প্রধান ইস্যু, সে কথা পইপই করে বুঝিয়ে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা। বস্তুত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (সার) মাধ্যমে সেই অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিয়ে নির্বাচন করাই যে তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য, সেটাও গত ছ’মাসে বিজেপির প্রচারে বারবার উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ও শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলায় এসেও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পাল্টা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুললেন, অনুপ্রবেশ আটকানোর দায়িত্ব কার? রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কাশ্মীরে কে বাধা দিয়েছিল? পহেলগাম হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে দিল্লি বিস্ফোরণের প্রসঙ্গও তুলে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণে বিঁধেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, শাহ ঘোষণা করে দিয়েছেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে দিল্লি–গুজরাট থেকে সরকার চলবে। এই প্রসঙ্গে বিজেপিকে ফের ‘বাংলা বিরোধী’ বলেও কটাক্ষ ছোড়েন অভিষেক।

    এদিন নিউ টাউনের পাঁচতারা হোটেলে শাহ বিজেপির নির্বাচনী সংকল্পপত্র প্রকাশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পহেলগাম কাঁটায় বিদ্ধ করে অভিষেক বলেন, ‘কাশ্মীরে তো তৃণমূল সরকার নেই। সেখানে নিরাপত্তার ভার পুরোপুরি কেন্দ্রের হাতে। তা হলে সেখানে জঙ্গি অনুুপ্রবেশ আটাকানো গেল না কেন? কেন এক বিদেশি–সহ ২৬ জনকে খুন হতে হলো? সেই প্রশ্নের জবাব আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিন।’ তাঁর সংযোজন, ‘দিল্লিতে তো বিজেপি সরকার। সেখানকার আইন–শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে। তা হলে সেখানে জঙ্গিরা ঢুকে দিনের আলোতে বিস্ফোরণ ঘটালো কী করে? এ সব প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সস্তার রাজনীতি করে ভোটের প্রচার করলে মানুষ প্রশ্ন তো তুলবেই।’ এর পাশাপাশি বিজেপি শাসিত অসমে ভারত–বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘অসমে তো ১০ বছর ধরে বিজেপির সরকার। তার পরেও এ বার ভোটের প্রচারে গিয়ে অমিত শাহ বলেছেন, আমাদের আর একবার সুযোগ দিন। তা হলে সীমান্ত দিয়ে একটা পাখিও গলতে পারবে না। এত দিনেও কেন তা আটকাতে পারল না ডাবল ইঞ্জিন সরকার? এ সব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।’

    অনুপ্রবেশ নিয়ে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। অভিষেক তোলেন প্রধানমন্ত্রীর ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ তত্ত্বের প্রসঙ্গও। সেই প্রসঙ্গে টেনে আনেন ২০২৪–এ বাংলাদেশে পালাবদলের পরে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার নামও। অভিষেক বলেন, ‘দিল্লিতে শেখ হাসিনা দেড় বছর ধরে কী করছেন? শেখ হাসিনার স্টেটাস কী! তিনি অনুপ্রবেশকারী, নাকি শরণার্থী? কোন শিল্পপতিকে বাঁচাতে হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে রাখা হয়েছে?’

    এর পরেই দিল্লি–গুজরাটের প্রসঙ্গের কথা পাড়েন অভিষেক। এ দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ জানান, বিজেপি বাংলায় ভোটে জিতলে কোনও যোগ্য, দক্ষ বাঙালিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তখন সাংবাদিকরা তাঁকে এ প্রশ্নও করেন, বাংলায় এমন একটা ন্যারেটিভ আছে যে বঙ্গ–বিজেপিকে দিল্লি থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়! এ বার কী হবে? তাতে শাহ বলেন, ‘বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে কোনও বাঙালিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পরিচালিত হওয়ার থেকে তো দিল্লি থেকেই হওয়া ভালো।’ পরে এই প্রসঙ্গে টেনে শাহকে আক্রমণ শাণান অভিষেক। তিনি বলেন, ‘আজ অমিত শাহ কার্যত স্বীকার করেছেন যে, বিজেপি যদি বাংলায় ক্ষমতায় আসে, তা হলে বাংলা দিল্লি ও গুজরাট থেকে চলবে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে চলার থেকে দিল্লি–গুজরাট থেকে চলা ভালো। এর থেকেই প্রমাণ হচ্ছে, বিজেপি বাংলা তথা বাংলার মানুষদের কী চোখে দেখে। বাংলা ভাষায় কথা বললে সমস্যা, বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে সমস্যা, এমনকী বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়েও সমস্যা! এই বিজেপি কী করে বাংলার ভালো করবে?’

    রাজ্যে ‘সার’ প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে শাহের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম, গত ছ’মাস ধরে সার-এর নামে নির্বাচন কমিশন বাংলার বুকে যা করেছে, তার জন্য তিনি ক্ষমা চেয়ে তার পরে কথা শুরু করবেন।’ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে তাঁর দাবি, ‘সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লক্ষ নাম তারা (বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন) বাদ দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ নাম হিন্দু বাঙালির। অসমে‌ও তারা এটা করেছে। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, যে বাংলায় কথা বলবে তাকে জেলে ঢুকিয়ে দেবে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আসল উদ্দেশ্য।’ যদিও অভিষেকের অভিযোগ উড়িয়ে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘নাম বাদ যাওয়া নিয়ে তৃণমূলের এত ভয় কীসের? আমরা তো বলেছি, কোনও অনুপ্রবেশকারীর নাম যাতে ভোটার তালিকায় না–থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তারপরেও অ্যাজুডিকেশনে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট তো বলেছে তাঁরা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারেন। তার মানে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের উপরেও তৃণমূলের আস্থা নেই!’

  • Link to this news (এই সময়)