• ‘সংকল্প’ নয় ‘জুমলা’! তোপ অভিষেকের
    এই সময় | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: পদ্মের ‘সংকল্পে’র পাল্টা জোড়াফুলের ‘জুমলা’!

    বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তাদের ইস্তেহার হিসেবে শুক্রবার ১৫ দফা সংকল্পপত্র পেশ করেছে। সেই সংকল্পপত্রকে কার্যত ‘জুমলা’ বা মিথ্যাচার বলে আক্রমণ শাণালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু পয়েন্ট ধরে ধরে এই ইস্তেহার নিয়ে প্রশ্ন তোলাই নয়, বিজেপি অন্য যে সব রাজ্যে ক্ষমতায় আছে, সেখানেও তাদের প্রতিশ্রুতি কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। বিজেপির সংকল্পপত্রে মহিলা–যুবকদের ভাতার পাশাপাশি রাজ্যে কর্মসংস্থানের একগুচ্ছ আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মাস খানেক আগেই ‘যুবসাথী’ প্রকল্প চালু করেছে। এ দিন নির্বাচনী প্রচার থেকে তৃণমূলনেত্রী ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের একটি নতুন আঙ্গিকের কথাও জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, ‘যুবসাথীর মাধ্যমে আমরা বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কোথায় রয়েছে, তার খোঁজ দেবো।’

    রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে ‘যুবসাথী’ প্রকল্প ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিরোধীরা, বিশেষ করে বিজেপি নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শাণিয়েছিলেন, রাজ্যে বেকারদের ভাতা না দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করার দাবি তুলে। পাল্টা মমতা-অভিষেকও জানিয়েছিলেন, এটা বেকার ভাতা নয়, বরং বেকারদের সাহায্য করার জন্যই এই অনুদান দেওয়া হচ্ছে। আর এ দিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী দাবি করলেন, ‘যুবসাথী’র মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও হবে। যদিও কী ভাবে তা হবে, ‘যুবসাথী’ কি প্রায় অবলুপ্ত হয়ে যাওয়া এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মতো করে কাজ করবে— এই প্রশ্নগুলির ব্যাখ্যা এ দিন দেননি মমতা।

    এ দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলার জন্য একাধিক প্রকল্প এবং প্রতিশ্রুতির আশ্বাস দেন বিজেপির সংকল্পপত্রে। তার মধ্যে একটা বড় ঘোষণা হলো ভোটে জিতলে রাজ্যের মহিলাদের জন্য তিন হাজার টাকার অনুদান। যাকে বিঁধে অভিষেক বলেন, ‘মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে মাসে ৩০০০ টাকা দেবে! নতুন জুমলা।’ সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক একটি ভিডিয়ো দেখান, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ভাষণ দিতে শোনা যাচ্ছে। সেখানে মোদী বলছেন, ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসের আগে দিল্লির প্রতিটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা ঢুকে যাবে। এর পরে অভিষেকের দাবি, ‘প্রধানমন্ত্রী ২০২৫–এর ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি ভোটের আগে এই কথা বলেছিলেন। আজও এক জন মহিলা টাকা পাননি। আমি বলছি না, কিন্তু এই হচ্ছে মোদীর প্রতিশ্রুতি! যেখানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেখানে আগে সেটা বাস্তবায়িত করুন।’ তৃণমূল সাংসদের আরও দাবি, মহারাষ্ট্রে সার্ভে করার নামে ৯০ হাজার মহিলাকে সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘বাংলার সরকার পরিবারের সব মহিলাকে টাকা দেয়। কোনও প্রশ্ন, শর্ত ছাড়া টাকা দেয়।’ সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলে তাঁর প্রশ্ন, ‘একটা রাজ্যে করে দেখান। বিজেপির সরকার তো অনেক রাজ্যেই আছে। সেখানে কেন দিচ্ছেন না? আসলে এটা ভোটের প্রতিশ্রুতি। ভাতা দেওয়ার নামে ভোট কেনার ফন্দি। বাংলার মানুষ এই প্রতিশ্রুতি প্রত্যাখ্যান করবে।’

    পাশাপাশি কেন্দ্রে ১০ বছরের বেশি সরকার চালিয়েও কেন দেশ জুড়ে বা বাংলার মানুষের জন্য কোনও সরাসরি প্রকল্প আনা হচ্ছে না, সেই প্রসঙ্গ তুলেও বিজেপিকে আক্রমণ শাণান অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘এ রাজ্যে ইডি-সিবিআই যখন আসে, তখন তো সরাসরি আসে। রাজ্যকে জানিয়ে তো আসে না। তা হলে ভাতার ক্ষেত্রেই বা রাজ্যে ক্ষমতায় আসার কথা আসছে কেন? বিজেপি তো কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে। তা হলে ভাতাও সরাসরি বাংলার অ্যাকাউন্টে পাঠান।’ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং এ দিন অমিত শাহ বাংলাকে দুর্নীতিমুক্ত করা ও তৃণমূল জমানার সব দুর্নীতির বিচারের যে আশ্বাস দিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতেও কটাক্ষ ছুড়েছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপি নাকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে! আসানসোলের সব থেকে বড় কোল মাফিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিমানবন্দরের মতো উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ফুল দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন! এটাই বিজেপির দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আদর্শ নিদর্শন।’

    উত্তর ২৪ পরগনার তিনটি সভা থেকে এ দিন বিজেপির প্রতিশ্রুতিকে ভোটের সময়ের ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর কথাতেও অভিষেকের কথার অনুরণন শোনা গিয়েছে। মমতা বলেন, ‘টেলিপ্রম্পটার দেখে বলছেন, বাংলাকে সুনার (সোনার) বাংলা করব। তা হলে যে রাজ্যগুলোতে ডাবল ইঞ্জিন সরকার চালাচ্ছেন, সেগুলোকে সোনার রাজ্য করতে পারছেন না কেন?’ এই প্রসঙ্গেই তিনি আরও একবার জানান, এ রাজ্যে সমস্ত মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হয়। পরিবারের একাধিক মহিলাকেও দেওয়া হয়। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাড়িতে স্কুটার, টেলিভিশন থাকলে মহিলাদের এই ভাতা দেওয়া হয় না। বাছবিচার না করে সমস্ত মহিলাকে স্বাবলম্বী করতে যে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর, সে কথা বার বার মনে করিয়ে মমতার আশ্বাস, ‘এমন ব্যবস্থা করছি, যাতে কোনও দিনও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ না হয়। যতদিন এই পৃথিবীর আলো–হাওয়া থাকবে, ততদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থাকবে।’ পাশাপাশি ‘দুয়ারে চিকিৎসা’র উপকারিতার কথা তুলে মমতা বলেন, ‘এ বার থেকে আপনাকে চিকিৎসার জন্য আর কোথাও যেতে হবে না। আপনার ব্লকে, আপনার এলাকায় চিকিৎসা হবে। ডাক্তার-নার্সরা আসবেন।’ মমতা এবং অভিষেক দু’জনেরই সাফ কথা, তৃণমূল যা বলে তা-ই করে দেখায়।

  • Link to this news (এই সময়)