এই সময়: বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালের দুর্নীতি এবং আইন–শৃঙ্খলার অবক্ষয়ের খতিয়ান তুলে ধরতে একটি বিশেষ ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার বিজেপির যে নির্বাচনী ইস্তেহার শাহ প্রকাশ করেছেন, তাতেও এই বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। শাহর ওই ঘোষণার আগেই এ দিনই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার বকেয়া নিয়ে বিজেপি–র শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি তোলেন। শুক্রবার দুপুরে ওই শ্বেতপত্রের প্রসঙ্গ তুলে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন অভিষেক। পরে অমিত শাহ বিজেপির ইস্তেহার— সংকল্পপত্র প্রকাশ করার পরে তার প্রতিটি পয়েন্ট ধরে সাংবাদিক সম্মেলনে জবাব দেন অভিষেক।
এ দিন অভিষেক বলেন, ‘বিজেপি শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে বলেছে, খুব ভালো কথা। কিন্তু তার আগে বাংলার ভোটের আগে ওরা শ্বেতপত্র প্রকাশ করে বলুক গত ১২ বছরে এই রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে তারা কত অর্থ বরাদ্দ করেছে। এটা আমার আজকের কথা নয়। ২০২৪–এর লোকসভা ভোটের আগে ১৪ মার্চ আমি এটা নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলাম। ৭৫৭ দিন পরেও তার জবাব এল না।’
সেই পোস্টের প্রসঙ্গে অভিষেক এ দিন বলেন, ‘ওই পোস্টে আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছিলাম, বিজেপি নেতৃত্ব আমার সঙ্গে মুখোমুখি বিতর্কসভায় আসুক। সেই চ্যালেঞ্জ এখনও রয়েছে।’ শুধু এই বিষয়েই নয়, অভিষেক কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছরের কার্যক্রম নিয়েও শ্বেতপত্র প্রকাশের চ্যালেঞ্জ জানান। এমনকী, যে সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, সেই রাজ্যে তাঁদের কাজকর্ম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করার জন্যও চ্যালেঞ্জ ছোড়েন অভিষেক।
দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে বরাবর বিঁধছে বিজেপি। বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ দুর্নীতি ইস্যুতে ক্রমাগত আক্রমণ করে চলেছেন। এ বার দুর্নীতি ইস্যুতে বিজেপিকে পাল্টা বিঁধলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে একটি ছবি দেখিয়ে অভিষেক বলেন, ‘এই ছবিতে যাঁকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে ফুল দিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি কয়লা মাফিয়া জয়দেব খাঁ। এই বিজেপি নাকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে!’ সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, ‘এই লোককে ক’বার ইডি, সিবিআই ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে? বিজেপির ওয়াশিং মেশিনে গিয়ে তিনি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছেন।’
এর পরেই তিনি আরও নেতার নাম তোলেন। বলেন, ‘হিমন্ত বিশ্বশর্মা থেকে নারায়ণ রাণে, অজিত পাওয়ার, যদিও তাঁর মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু এঁরা বিজেপির ছায়ায় যাওয়ায় তাঁদের নামে রাতারাতি তদন্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’ অভিষেকের প্রশ্ন, ‘এই বিজেপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে?’ বিজেপি বরাবর তৃণমূলের বিরুদ্ধে পরিবারবাদের অভিযোগ তুলেছে। সেই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘সবচেয়ে বড় পরিবারবাদ বিজেপি করে। শুভেন্দুও (অধিকারী) টিকিট পেয়েছেন। তাঁর ভাইও প্রার্থী। অর্জুন সিংহের ছেলে টিকিট পেয়েছেন, শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রীর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’
বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে হবেন, এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি শাহ। সেই প্রসঙ্গে অভিষেককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘ওদের মুখ্যমন্ত্রী মুখ নেই — এটা ওদের দুর্বলতা। মিঠুন বলছেন, তিনি হতে পারেন। এক দিন সুকান্ত হবেন, এক দিন শুভেন্দু, এক দিন মিঠুন।’