• 'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়...', গলায় ফাঁস লাগানোর আগে ফেসবুকে ভিডিয়ো ভ্লগারের
    এই সময় | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, ময়নাগুড়ি: ইচ্ছে ছিল ভ্লগ বানিয়ে সৌরভ যোশী, গৌরভতানেজা, এলভিস যাদব, ডিম্পল পায়েল মলহন, পঞ্চলদের মতো নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবেন। সেই লক্ষ্যে বেশ কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন ধরনের ভ্লগ বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করতেন তিনি। তাতে কিছু আয়ও হতো ২৪ বছরের যুবক মনোজ দাসের। এ ছাড়াও স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন তিনি। সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যা ঘটল, তা হয়তো কল্পনাও করেনি কেউ। নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিয়ো বার্তা দিয়ে ঘরের মধ্যেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন তিনি। পরিবারের অন্তত এমনটাই দাবি।

    রাতে বৃহস্পতিবার গভীর ময়নাগুড়ি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনোজ তাঁর ফেসবুক পেজে একটি ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি 'এই সময়') পোস্ট করেন। তাতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'এখন বাজে রাত আড়াইটে। এখন আমি আমার জীবন শেষ করে দেবো। ইচ্ছে ছিল, জীবনের শেষ হাসিটা মৃত্যুর আগেই হাসব, সেটা আর হলো না। নিজের কিছু সমস্যার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছি। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।' পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে মনোজের ভিডিয়ো পোস্টটি দেখে তাঁর বোন চুমকি দাস ফালাকাটায় শ্বশুরবাড়ি থেকে সঙ্গে সঙ্গে বাবা তপন দাসকে ফোন করে বিষয়টি জানান। মেয়ের ফোন পেয়ে বাবা মনোজকে ডাকাডাকি শুরু করেন। কিন্তু কোনও সাড়াশব্দ না-পেয়ে শেষে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন মনোজ।

    এরপরে ময়নাগুড়ি থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে যুবকের দেহ উদ্ধার করে ময়নাগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা মনোজকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত ব্লগারের ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভিডিয়ো বার্তায় ওই যুবক যা যা বলেছিলেন, সেসবই লেখা রয়েছে ওই সুইসাইড নোটে। পেশায় টোটোচালক মনোজের বাবা বলেন, 'এমনিতে ছেলের কোনও সমস্যা ছিল না। বাড়িতেও হাসিখুশি ছিল। হঠাৎ কীই যে হলো, কিছুই বুঝতে পারছি না।' সুইসাইড নোট দেখে ওই যুবকের ব্যক্তিগত কোনও সমস্যা ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)