এই সময়, শিলিগুড়ি: মাটিগাড়া নকশালবাড়ি কেন্দ্রের বুথে যাওয়া মানে আতঙ্ক বুকে চেপে ভোট দেওয়া! প্রায় চারদিকই ঘিরে রেখেছে কার্শিয়াং ও মহানন্দা বনাঞ্চল। বুনো হাতির পাল থেকে চিতাবাঘ, বুনো শুয়োর থেকে বিষধর সাপ, কী নেই! তবু ভোট তো দিতেই হবে। মুশকিল আসান করতে এগিয়ে এসেছে কার্শিয়াং ও মহানন্দা বন দপ্তর। ভোটের আগের দিন রাত থেকেই বনাঞ্চল লাগোয়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এবং গ্রামগুলিতে নজরদারিতে নামবেন বনকর্মীরা।
বন দপ্তরের অফিসে ২৪ ঘণ্টার জন্য রেডি থাকবে কুইক রেসপন্স টিম। বনাঞ্চল লাগোয়া প্রতিটি গ্রামের জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে অ্যালার্ট করে দেওয়া হবে যাতে ভোটকেন্দ্র এবং গ্রামের আশপাশে বুনো জন্তুর আনাগোনা টের পেলেই বন দপ্তরে খবর পৌঁছে যায়। ইতিমধ্যে কমিটিগুলিকে নিয়ে বৈঠকের পরে বুনো জন্তু তাড়াতে বাজি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিছু ভোটকেন্দ্রে বনকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীও নামানো হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কার্শিয়াং বন দপ্তরের এজিএফও রাহুলদেব মুখোপাধ্যায় বলেন, 'বনাঞ্চলে বুনো জন্তু থাকবেই। ভোট বলে তাঁদের তো আর এলাকা ছাড়া করা যাবে না। বরং ভোটের দিন তাঁদের ঘন জঙ্গলে আটকে রাখার চেষ্টা হবে। কিউআরটি টিম, প্যাট্রলিং ভ্যান, কন্ট্রোল রুম, সমস্ত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'
২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গ সহ রাজের নানা প্রান্তে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে। তবে ভোট নিয়ে উত্তরবঙ্গের বন দপ্তরের মতো এত দুর্ভাবনা রাজ্যের অন্যত্র কমই দেখা যায়। বিশেষ করে কার্শিয়াং বন দপ্তরের বাগডোগরা এবং নকশালবাড়ি এবং সুকনায় বুনো জন্তুর আনাগোনা ঠেকিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট করানোর ব্যাপারে কার্যত 'হাই অ্যালার্ট' জারি হয়েছে। বেঙডুবি, ত্রিহানা, অর্ড-টেরাই, কিরণচন্দ্র, বেলগাছি, লোহাগড়, বামনডাঙি এলাকা জুড়ে একটিও বুনো জন্তু যাতে জঙ্গল ছেড়ে বাইরে না-আসে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।