• ‘গণতান্ত্রিক বদলা’র বার্তা মমতার, পাল্টা কটাক্ষে পদ্ম
    এই সময় | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, এ বারের বিধানসভা ভোটে তাঁদের লক্ষ্য ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা হিসাব’। ‘হিসাব’ মানে তৃণমূল জমানায় বাংলায় যে দুর্নীতি, অপশাসনের অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতায় এলে তার সবকিছুর ‘হিসেব’ নেবে বিজেপি সরকার। আর শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় শোনা গেল, ‘বদলা নিতে হবে।’ কীসের বদলা? তৃণমূলনেত্রীর ব্যাখ্যা, এই ‘বদলা’ হবে গণতান্ত্রিক। যে ভাবে ‘সার’–এর নামে বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, বিজেপিকে ভোট না–দিয়ে তার বদলা নিতে হবে রাজ্যের মানুষকে।

    ২০১১–তে রাজ্যে পালাবদলের সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে শোনা গিয়েছিল ‘বদলা নয়, বদল চাই’ স্লোগান। সেই স্লোগান কি বদলে গেল? এ দিন উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় তিনটি পৃথক জনসভা করেন মমতা। প্রতিটি জনসভাতেই তাঁর মুখে ছিল ‘বদলা’র প্রসঙ্গ। তাঁর কথায়, ‘আমাদের বদলা হবে গণতান্ত্রিক, আমাদের বদলা মানে শান্তি। আমাদের বদলা মানে ভোট। আমাদের বদলা মানে অধিকার।’ বিজেপি অবশ্য তাঁর এই স্লোগানকে ‘হারের ভয়ে প্রলাপ’ বলেই ব্যাখ্যা করেছে।

    পূর্ব বর্ধমানে গলসির একটি গ্রামে ‘বদলাও হবে বদল হবে, পদ্ম চিহ্নে ভোট দিন’ দেওয়াল লিখে তৃণমূলের সমালোচনার মুখে পড়েছিল গেরুয়া ব্রিগেড। আবার প্রধানমন্ত্রী মোদী একটি জনসভা থেকে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, ‘এবার সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা ইনসাফ হোগা!’ জোড়াফুল তখন অভিযোগ করে, মোদী প্রচ্ছন্ন হুমকির কথাই বলেছেন।

    এ দিন তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘বদলা নিতে হবে। ওদের একটিও ভোট নয়। ওঁরা আপনাদের ভোটাধিকার কাড়তে চায়। তাই ওদের ভোট না দিয়ে আমাদের ভোট দিন। ভোট দিয়েই গণতান্ত্রিক ভাবে বদলা নিন।’ এই প্রসঙ্গে মমতা বার বার ফিরে গিয়েছেন রাজ্যে ‘সার’ প্রক্রিয়ার কথায়। তাঁর দাবি, ‘সার’–এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বিজেপি বাঙালি ও বাংলার বাসিন্দাদের ভোটাধিকার কাড়তে চায়। মমতা দাবি করেন, ‘আমি সংবাদমাধ্যমে দেখলাম, ৯১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৬০ লক্ষই নাকি হিন্দু। আমি এটা ক্রস চেক করছি। কিন্তু ওরা আপনাদের ভোটাধিকার কাড়তে চাইছে।’

    এই প্রসঙ্গে তৃণমূলনেত্রী পদ্মের ভোটারদের কাছেও আবেদন করেছেন জোড়াফুলকে ভোট দেওয়ার জন্য। মমতা বলেন, ‘গতবারও যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরা এবার অন্তত আমাদের ভোট দিন। কারণ ওরা আপনাদের নাম কেটে বাদ দিতে চায়। তাই যাঁদের নাম ভোটার লিস্টে আছে, তাঁরা তৃণমূলকে বাদ দিয়ে আর অন্য কোনও পার্টিকে এ বার ভোট দেবেন না।’ আশঙ্কা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি বলেছেন, ‘ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম আছে, তাঁরাও কিন্তু নিশ্চিন্ত নন। এরপরে বিজেপি বাংলায় এনআরসি করতে চাইবে। আর আমাদের সরকার যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ বাংলায় আমরা এনআরসি হতে দেবো না। বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্পও বানাতে দেবো না।’ অসমের এনআরসি প্রসঙ্গ টেনে এনে আরও একবার তিনি মনে করিয়ে দেন, সে রাজ্যে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল, যার মধ্যে ১৩ লক্ষই হিন্দু।

    ‘অ্যাজুডিকেশনে’র পরে যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘আমি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছিলাম বলে ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নামের বদলে ৩২ লক্ষের নাম ঢুকিয়েছে। আমরা আবার আদালতে যাব। হয়তো এ বার আপনারা ভোট দিতে পারবেন না। কিন্তু চিন্তা করবেন না, আমরা আছি। আমরা লড়াই করতে জানি।’ যদিও বিজেপি একে আমল দিতে নারাজ। ‘বদলা’ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা বলেন, ‘বদলের স্লোগান দিয়ে উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ক্ষমতায় এসেছিলেন আর বদলার স্লোগান দিয়ে উনি বিদায় নেবেন। আসলে হারের ভয়ে প্রলাপ করছেন।’

  • Link to this news (এই সময়)