• একটা শিশুর রেপ-মার্ডার কেস নিতে এত অনীহা! সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনা পুলিশকে, তলব CP-কেও
    এই সময় | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: চার বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ঘিরে ফের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল গাজিয়াবাদ পুলিশ। শুক্রবার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট ওই শহরের পুলিশ কমিশনারকে সব নথিপত্র–সহ সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ঘটনার বিবরণ ‘কোর্টের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।’ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ বলে, ‘ঘটনার গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আদালতের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিশেষ তদন্ত দল (সিট) বা কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন।’ বেঞ্চ মন্তব্য করে, ‘এই মামলার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হল বেসরকারি হাসপাতাল এবং স্থানীয় পুলিশের চরম উদাসীন, অমানবিক ও সংবেদনহীন আচরণ।’

    শুনানিতে পিটিশনরের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এন হরিহরণ জানান, ঘটনাটির পর পরই দু’টি বেসরকারি হাসপাতাল গুরুতর আহত শিশুটিকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে। এই কথা শুনে রাগে ফেটে পড়েন বিচারপতিরা। তার পরেই শীর্ষ কোর্ট উত্তরপ্রদেশ সরকার, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট দুই হাসপাতালকে নোটিস জারি করে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, গাজ়িয়াবাদের পুলিশ কমিশনারকে মূল নথিপত্র–সহ আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-কেও হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া আদালত ফের স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্যাতিত শিশুর পরিচয় যাতে কোনও ভাবেই প্রকাশ না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সব পক্ষকে। এতে কোনও রকম গাফিলতি হলে আদালত কাউকে রেয়াত করবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত। আবেদনকারীর আইনজীবীর অভিযোগ, শিশুটির পরিবারকে পুলিশ ভয় দেখাচ্ছে ও হেনস্থা করছে।

    এই প্রেক্ষিতে আদালত পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। ১৬ মার্চ ২০২৬-এ এক প্রতিবেশী চকোলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশুটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ পরও তারা না ফেরায় শিশুটির পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে একটি স্কুলের পিছনের মাঠে অভিযুক্তকে দেখা যায়। তার দেখানো জায়গায় গিয়ে শিশুটিকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা করতে অস্বীকার করা হয়। এরপর অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালেও একই ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আদালতে হরিহরণ বলেন, এফআইআর দায়ের ও গ্রেপ্তার হলেও হাসপাতালগুলিকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতেই চায়নি। ঘটনার একদিন পর সেই এফআইআর দায়ের করা হয়। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে শিশুটির গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।

    তাঁর বক্তব্য, ‘সম্ভবত ভোঁতা কোনও বস্তু ব্যবহার করা হয়েছিল, কিন্তু সে বিষয়ে স্পষ্ট মত দেওয়া হয়নি। পুরো ঘটনাটিকে শুধুমাত্র খুন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে।’ আইনজীবীর আরও অভিযোগ, এফআইআরে উল্লেখ রয়েছে পুলিশ খবর পাওয়ার সময় শিশুটি মৃত ছিল — যা ঘটনার প্রকৃত বিবরণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, স্থানীয়দের একটি ভিডিয়ো রয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে শিশুটি তখনও জীবিত ছিল, কিন্তু পুলিশ তা গ্রহণ করছে না। উল্টে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ‘শান্তিভঙ্গ’-এর নোটিস পাঠানো হচ্ছে।

    পুরো মামলা শুনে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে শিশুটির গোপনাঙ্গে রক্তক্ষরণ ও একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। পাশাপাশি মাথা ও শরীরের অন্যান্য অংশেও আঘাতের দাগ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে পিটিশনার ও তার পরিবার আরও হয়রানির শিকার হন। এত গুরুতর অপরাধের অভিযোগ সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে পরিবারকে থানায় আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে — এমন অভিযোগও রয়েছে। ১৭ মার্চ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ও ২৩৮(এ) ধারায় এফআইআর দায়ের হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘যৌন নির্যাতনের স্পষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পকসো আইন বা ধর্ষণের ধারা প্রয়োগ করা হয়নি, যা অত্যন্ত বিস্ময়কর।’ পরে ১৮ মার্চ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • Link to this news (এই সময়)