এই সময়, ময়ূরেশ্বর: দু’পক্ষই রণংদেহি। ভোটের ময়দানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ। সেয়ানে সেয়ানে লড়াই জমে উঠেছে বীরভূমের ময়ূরেশ্বর কেন্দ্রে। তৃণমূল এ বারও প্রার্থী করেছে দু’বারের বিধায়ক অভিজিৎ রায়কে। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন দুধকুমার মণ্ডল।
পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ ৫৯ বছরের দুধকুমারকে রাজনীতির অলিন্দ ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জের ছা–পোষা মানুষজনও এক ডাকে ‘দুধদা’ হিসেবে চেনেন। বাম আমল থেকেই তাঁকে সাইকেলে গ্রামে গ্রামে চক্কর মারতে দেখা যেত। দু’বার ময়ূরেশ্বর পঞ্চায়েতের প্রধান এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জেলা পরিষদ, বিধানসভা এমনকী লোকসভা নির্বাচনেও বীরভূম কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছেন। ২০১১–এ ময়ূরেশ্বর কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পাশাপাশি, দলের রাজ্য কমিটির সদস্য এবং জেলা সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন।
অন্য দিকে, দু’বারের বিধায়ক তথা তৃণমূলের প্রার্থী ৫৭ বছরের অভিজিৎ দীর্ঘ দিন দলের অঞ্চল এবং ব্লক সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর ভরসা সংগঠন এবং উন্নয়নের খতিয়ান। ময়ূরেশ্বর বিধানসভার দু’টি পঞ্চায়েত সমিতিই তৃণমূলের দখলে। ১৬টি পঞ্চায়েতের মধ্যে মল্লারপুর–১ ছাড়া বাকি সবই জোড়াফুলের নিয়ন্ত্রণে। ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনে ১২ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজেপির শ্যামাপদ মণ্ডলকে হারিয়েছিলেন অভিজিৎ। ২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনে বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফলের নিরিখে ময়ূরেশ্বরে ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে তৃণমূল।
যদিও বিজেপি–র দাবি, এই ময়ূরেশ্বর তাদের শক্ত ঘাঁটি। কারণ সংগঠনের দিক থেকে জেলার অন্য জায়গার তুলনায় ময়ূরেশ্বরে তারা বেশি শক্তিশালী। ময়ূরেশ্বরকে কেন্দ্র করেই জেলায় বিজেপির উত্থান বলে মনে করা হয়ে থাকে। বাম আমলে ময়ূরেশ্বরের দু’টি পঞ্চায়েত সমিতি–সহ কয়েকটি পঞ্চায়েত বিজেপির নিয়ন্ত্রণে ছিল। তখন অবশ্য তৃণমূলের সঙ্গে জোট ছিল বিজেপির! সে সব এখন অতীত।
এ বার দুই শিবিরেই প্রার্থিপদের একাধিক দাবিদার ছিল। শিকে ছিঁড়েছে দুধকুমারের। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। প্রচারে তৃণমূলের দুর্নীতি, পুলিশ–প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের কথা তুলে ধরছেন। বলছেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি ভোট সন্ত্রাস এবং লুঠতরাজ রুখতে পারে, তা হলে আমাদের জয় অনিবার্য। আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত তৃণমূল কোন মুখে ভোট চাইবে?’ অভিজিৎ বলেন, ‘বিজেপি সরকার বাংলাকে বঞ্চিত করেছে। ওরা কোন মুখে মানুষের কাছে ভোট চাইবে। আর চাইলে মানুষ কোন বিবেচনায় ওদের ভোট দেবে?’
২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনে ময়ূরেশ্বর–২ ব্লকের সাতটি পঞ্চায়েতের মধ্যে তৃণমূলকে সর্বোচ্চ লিড দিয়েছিল কলেশ্বর। ২০২১–এ ওই পঞ্চায়েতে তৃণমূলের লিড ছিল ২,৫৬৮। লোকসভায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪,০৩৮। ওই ব্লকের বাসিন্দা তথা তৃণমূলের ব্লক সভাপতি প্রমোদ রায় বলেন, ‘আমাদের সরকারের এত জনমুখী প্রকল্পের জন্য আমরা এ বার প্রতিটি পঞ্চায়েতে কলেশ্বরের মতো ব্যবধান বাড়িয়ে জিতব।’ তাঁর সংযোজন, ‘বিজেপি তো ইংরেজদের মতো ব্যবসা করতে এসেছে। মানুষ ওদের স্বরূপ জেনে গিয়েছে।’
মাঝে মাত্র ১১ দিন। ২৩ এপ্রিল ভোট। ইভিএমে জবাব দেবেন ময়ূরেশ্বরের মানুষ।