এই সময়, দুর্গাপুর: সকাল সকাল বাড়ির জন্য মাছ কিনতে বেনাচিতি বাজারে গিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। কুশল বিনিময় করছিলেন মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। ঠিক তখনই আলটপকা ধেঁয়ে এল প্রশ্ন— ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালি মাছ খেতে পারবে তো ?'
বাজার করতে এসে এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে, ভাবতে পারেননি দুর্গাপুর পশ্চিমের পদ্ম-প্রার্থী লক্ষ্মণ। তবে এড়িয়ে যাননি। প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাঙালি সারা জীবন মাছে–ভাতে থাকবে। অন্য কোনও আনাজ না–থাকুক, এক টুকরো মাছ হলেই বাঙালির ভাত খাওয়া হয়ে যাবে।’ একইসঙ্গে লক্ষ্মণের দাবি, ‘মাছ উৎপাদনে আমরা পিছিয়ে আছি। আরও বেশি করে উৎপাদন করতে হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ উৎপাদনের উপরে আরও জোর দেওয়া হবে।’
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা রাস্তার ধারে যাঁরা মাছ–মাংস বিক্রি করেন, তাঁদের ফল বা আনাজ বিক্রি করতে বলেছেন। সম্প্রতি রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে বাঙালির মৎসপ্রেমের সেন্টিমেন্টকে সুড়সুড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ‘বাংলা মৎস উৎপাদনে স্বনির্ভর নয়। বাইরের রাজ্য থেকে মাছ আমদানি করতে হয়।’
পাল্টা তৃণমূল সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মাছ নিয়ে যে তথ্য দিচ্ছেন তা সঠিক নয়। আগে আমরা অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে মাছ আনতাম। এখন চাহিদার ৮০ শতাংশ মাছ এই রাজ্যে উৎপাদন হয়। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে ওরা (বিজেপি) মাছ খেতে দেয় না।’ একই প্রসঙ্গে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের প্রাক্তন গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েত দপ্তরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘বাংলা এখন দু’লক্ষ টন মাছ রপ্তানি করে। এই তথ্য কি বিজেপির জানা নেই?’