• ভোর কিংবা গভীর রাতের লোকাল ট্রেনের যাত্রী? সাবধান! না হলেই খোয়াবেন মোবাইল-মানিব্যাগ
    এই সময় | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: ফাঁকা লোকাল ট্রেনে ছিনতাইকারীদের দাপটে তটস্থ শিয়ালদহ শাখার গুরুদাস হল্ট এলাকা।

    বুধবার সকাল পৌনে ছ’টা। ডানকুনি লোকাল সবেমাত্র শিয়ালদহ থেকে বিধাননগর রোড স্টেশনের দিকে রওনা দিয়েছে। বগিতে মেরেকেটে ৫–৬ জন যাত্রী। সাতসকালে যে যার মতো মোবাইলে রিলস দেখতে ব্যস্ত। ওই কামরায় বসে ছিলেন পেশায় ফিটনেস স্পেশালিস্ট মনোজ দে। কারশেড পেরিয়ে খালের উপর ট্রেনের গতি কমতেই আচমকা এক যুবক ছোঁ মেরে তাঁর মোবাইল নিয়ে চম্পট দেয়। শেষ পর্যন্ত শিয়ালদহ রেল পুলিশের দ্বারস্থ হন মনোজ। অভিযোগ জানাতে গিয়ে দেখতে পান আরও দুই যাত্রী একই রকম অভিজ্ঞতা নিয়ে আগেই থানায় উপস্থিত হয়েছেন।

    শিয়ালদহ স্টেশন সিসিটিভিতে মোড়া থাকলেও একটু এগোলেই ওৎ পেতে রয়েছে ছিনতাইকারী–মাদকাসক্তরা। কারশেডের ঠিক পরের এলাকা গুরুদাস হল্ট মেরে কেটে সাড়ে তিন কিলোমিটার। ঠিক ওই চত্বরকে কেন্দ্র করে চলন্ত লোকাল ট্রেন থেকে ছিনতাই–চুরির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। সকাল হোক বা রাত, চলন্ত ট্রেন থেকে চোখের নিমেষে মোবাইল–মানিব্যাগ ছিনতাই করে উধাও হয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা।

    সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে ভোরে এবং গভীর রাতের দিকে। পুলিশ কর্তাদের বক্তব্য, ‘ওই সময়ে যাত্রীরা একটু ঘোরের মধ্যে থাকেন। ছিনতাইকারীরা তার ফায়দা তোলে। রাতে প্রতি ট্রেনে রেল পুলিশ মোতায়েন থাকে। বিশেষত মহিলা বগিতে। ভোরের প্রথম ট্রেনেও পুলিশ থাকে। ওই জায়গায় টেকনিক্যাল কারণে ট্রেনের গতি কমে যায়। ছিনতাইকারীরা সেই সুযোগ নেয়।’

    রেল পুলিশ সূত্রে খবর, অনেকে ট্রেনে দরজা সামনে দাঁড়িয়ে কানে ফোন দিয়ে গল্পে মশগুল থাকেন। আবার কেউ ফাঁকা ট্রেনের গেটে হাওয়া খেতে খেতে ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন। যাত্রীদের অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে ছিনতাইকারীরা সে সময়ে নিজেদের কাজ করে নেয়। তবে এই ধরনের ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের বেশির ভাগ মাদকাসক্ত যুবক। মোবাইল ছিনতাই করে রাজাবাজারে নিয়ে গিয়ে পাঁচশো কিংবা হাজার টাকায় সেই মোবাইল বিক্রি করে নেশা করে। কোনও নির্দিষ্ট গ্যাং এই অপরাধে যুক্ত নয়। মাঝে মধ্যে এদের ধরা হলেও জামিন পেয়ে বাইরে এসে ফের নতুন করে ছিনতাই শুরু করে।

    শিয়ালদহ রেল পুলিশের দাবি, মাসে ওই এলাকায় চার–পাঁচটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। মোবাইল মিসিং হওয়ার অভিযোগও জমা পড়ে একাধিক। তবে বহুক্ষেত্রে সেই চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধারও করা হয়। কিন্তু এই অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।

  • Link to this news (এই সময়)