পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির জনসভা থেকে বড় অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ভুয়ো’ হলফনামা জমা দিয়ে তাঁর মনোনয়ন পত্র বাতিলের চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করলেন মমতা। শনিবার দলীয় প্রার্থী রামজীবন মান্ডির প্রচার সভায় উপস্থিত ছিলেন মমতা। সেই সভা থেকে বাংলার ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ SIR-কে ‘বড় স্ক্যাম’ বলেও দাবি করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
এ বারের নির্বাচনে ভবানীপুর আসন থেকে লড়ছেন মমতা। সেই আসনে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করার ‘চক্রান্ত’ প্রসঙ্গে মমতা এ দিন বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে আমার নাম কেটে দেওয়ার জন্য ওই গদ্দাররা চক্রান্ত করা হয়েছিল। আমার নামে দুটো এফিডেভিট করে আমার মনোনয়ন বাতিল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেনি। অনেক অসম্মান করেছিল, যাতে আমি না দাঁড়াতে পারি। যদি আমার উপর এত অত্যাচার হয়, তা হলে আপনাদের সঙ্গে কী করতে পারে আপনারা বুঝতে পারছেন।’
রাজ্যে SIR শুরু হওয়ার পর থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছেন মমতা। SIR-এর বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করে স্বয়ং সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একাসনে বসিয়ে এ দিন মমতা বলেন, ‘SIR একটা বড় স্ক্যাম। এটা SIR নয়। বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য একক প্রচেষ্টা। একটা বড় স্ক্যাম। এটা মাথায় রাখবেন।’
ইতিমধ্যেই দুই দফার নির্বাচনের ভোটার তালিকা ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা শেষমেশ প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ডিলিটেড ভোটারদের বিশেষ সতর্কীকরণ করেন মমতা। তাঁর দাবি, ‘বিহারে যাঁদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাকি বলা হচ্ছে, তাঁদের রেশন বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে।’ বাংলায় এই রকম পদক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
শুক্রবার ‘সংকল্প পত্র’ নামে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছে বিজেপি। সেই ইস্তেহারে বিজেপি দাবি করেছে, তারা সরকার গড়লে রাজ্যে ৪৫ দিনের মধ্যে UCC অর্থাৎ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করা হবে। এর সমালোচনা করে মমতার বক্তব্য, ‘UCC হলে আপনার কোনও অধিকার থাকবে না। আপনার ইচ্ছেমতো ধর্মচর্চা, আপনার সংস্কৃতি মানার অধিকার থাকবে না। হিন্দু, মুসলিম, আদিবাসীদের আলাদা মতে বিবাহ হয়। এরা বলছে, একটাই পথ হবে। বিজেপি মন্ত্র শিখিয়ে দেবে। বিজেপি যা বলে দেবে, সেটাই করতে হবে।’