মিঠুন ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি
গত বছর নেপালে জেন-জি বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল 'ভিআইপি কালচার'-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি সেখানকার প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শা দেশ থেকে 'ভিআইপি কালচার' শেষ করার জন্য বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। যা নিয়ে ভারত তথা বাংলাতেও চর্চার শেষ নেই। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে 'ভিআইপি কালচার' বন্ধ করার ডাক দিচ্ছেন শিলিগুড়ি বিধানসভার এসইউসিআই প্রার্থী শাহরিয়ার আলম। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, 'দেশ সেবার জন্যই যদি কেউ রাজনীতিতে আসেন, তা হলে সাংসদ-বিধায়কদের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ভাতা এবং এত -এত টাকা আনুষঙ্গিক খরচ কেন?' তার পরেই তিনি বলেন, 'কয়েক বছরের মধ্যে শ্রীলঙ্কা এবং নেপালে জনবিক্ষোভের ফলে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। দুই দেশেই ভিআইপি কালচার বন্ধ করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে সাংসদ-বিধায়কদের ভাতাও। এগুলো আমার মতে সঠিক কাজ। রাজনীতি পেশা হতে পারে না।'
শিলিগুড়ি শহরে শাহরিয়ারকে চেনেন না এমন মানুষ খুব কমই আছেন। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে স্কুলজীবন কাটলেও ২০১৩-তে সেই যে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়তে এসেছিলেন, তার পরে আর ব্যারাকপুর-মুখো হননি। শিলিগুড়িই হয়ে যায় তাঁর ঘরবাড়ি। পড়াশোনা শেষে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালেই চাকরিজীবন শুরু। পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতি, সমাজসেবায় নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছিলেন। এসএইসিআই-এর ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও, পরবর্তীতে পার্টির সদস্য হয়ে শিলিগুড়ি শহরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন শাহরিয়ার। শেষমেশ দলেরই এক সহকর্মীকে বিয়ে করে পাকাপাকি ভাবে শহরে থেকে যান তিনি। ওই সংস্থার আবাসনেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। উত্তরবঙ্গ, সিকিম-সহ বিভিন্ন এলাকায় যে কোনও দুর্যোগে চিকিৎসার জন্য ছুটে গিয়েছেন তিনি।
২০২১-এ দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনে যোগ দিয়ে আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা করেছিলেন শাহরিয়ার। হোলটাইম রাজনীতি এবং সমাজসেবা করবেন বলে তিনি ২০২০-তে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। সেই থেকে শাহরিয়ার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। মাত্র ১০০ ফি নিয়ে রোগী দেখেন বলে তাঁকে অনেকে 'গরিবের ডাক্তার' বলেও সম্মান করেন। বাকি সময়টা তিনি পার্টিকে দেন। সদাব্যস্ত এই মানুষটির বর্তমানে নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। প্রচারেই অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে কি না।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং আসনে শাহরিয়ারকে প্রার্থী করেছিল দল। সে বার ইভিএমে টর্চের আলো জ্বলেনি। জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। এ বার কি তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসের মতো দলকে টেক্কা দিয়ে টর্চ জ্বালানো সম্ভব হবে? শাহরিয়ার অবশ্য মনে করেন, ভোটে জেতা-হারাটা বড় কথা নয়। মানুষের কথা বলাটাই আসল। তাঁর কথায়, 'রাজনীতিতে অনেকদিন আগেই দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের কথা বলার কেউ নেই। আইনসভাগুলোতে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে সাধারণ মানুষে কোনও সম্পর্ক নেই। সেই জায়গায় কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে।' শুধু সংসদীয় রাজনীতি নয়, মতাদর্শের লড়াইয়ে বিশ্বাসী এই চিকিৎসক। তাই শিলিগুড়িতে প্রচারের সময়ে মতাদর্শের লড়াইয়ের কথা গুরুত্ব পাচ্ছে তাঁর ভাষণে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলিকেও প্রচারে বার বার তুলে ধরছেন তিনি। চিকিৎসকের কথায়, 'শিলিগুড়িতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য লোকাল ট্রেন প্রয়োজন। যানজটের কারণে রাস্তায় চলাফেরা করা যায় না। এই অবস্থার বদল আনতে আইনসভায় প্রবেশ করতেই হবে।' এ ছাড়া শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের উন্নতির কথাও জোর দিয়ে বলছেন শাহরিয়ার।