• ভার্মার মতো ইমপিচমেন্টের আগেই ইস্তফা আরও দুই বিচারপতির! এক জন কলকাতা হাইকোর্টের
    এই সময় | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • যে দিন সংসদীয় তদন্ত কমিটির সামনে তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের সওয়াল শুরু হওয়ার কথা, ঘটনাচক্রে সেই দিনই কমিটির শুনানি চলাকালীন পদত্যাগ করেছেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা। এর ফলে বাড়ি থেকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার বান্ডিল উদ্ধার হওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে যে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া (অপসারণ) শুরু হওয়ার কথা ছিল, তা স্বাভাবিক ভাবেই ভেস্তে গিয়েছে। এই ঘটনা শুক্রবার জাতীয় স্তরে শোরগোল ফেলে দিলেও, একেবারেই নজিরবিহীন নয়। অতীতেও দুই বিচারপতি একই ভাবে পদত্যাগ করেছিলেন ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার ঠিক আগে।

    আইন বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ভারতে কোনও বিচারপতিকে তাঁর পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। বিচারপতিকে অপসারণ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ করানোর জন্য সংসদের দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন। আজ পর্যন্ত এ দেশে কোনও বিচারপতিকেই ইমপিচ করা যায়নি। অতীতে যে দু'জন বিচারপতির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল, তাঁরা হলেন বিচারপতি সৌমিত্র সেন এবং বিচারপতি পিডি দীনাকরণ।

    কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সেনের বিরুদ্ধে আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছিল ১৯৯৩ সালে। সেই অভিযোগের তদন্তে একটি কমিটি গড়ে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। ওই কমিটির তদন্তে বিচারপতি সেনের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তার পরেই ২০১১ সালে বিচারপতি সেনের অপসারণের প্রস্তাব পেশ হয় রাজ্যসভায়। উচ্চকক্ষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তা পাশও হয়ে যায়। এর পর লোকসভায় ভোটাভুটির ঠিক আগেই পদত্যাগ করেন বিচারপতি সেন। আবার ২০১১ সালেই সিকিম হাইকোর্টের বিচারপতি দীনাকরণের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই সব অভিযোগের তদন্তে সংসদীয় কমিটিও গড়া হয়েছিল। কিন্তু তার শুনানি শুরু হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন বিচারপতি দীনাকরণ।

    প্রসঙ্গত, ‘জাজেস (এনকোয়ারি) অ্যাক্ট, ১৯৬৮’ অনুযায়ী, ইমপিচমেন্ট সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট বিচারপতির পেনশন-সহ যাবতীয় অবসরকালীন সুবিধার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার আগে পদত্যাগ করলে তাঁর সেই সমস্ত আর্থিক ও আইনি সুবিধা বজায় থাকার কথা।

  • Link to this news (এই সময়)