কলকাতার মুকুটে সাফল্যের নতুন পালক। ২০১৯ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত শহরের বাতাস ছিল সবথেকে বিশুদ্ধ। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (CREA) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে কলকাতায় দূষণের মাত্রা ছিল সবথেকে কম। এই সময়ে বাতাসে ধূলিকণা বা PM2.5-এর গড় পরিমাণ ছিল প্রতি ঘনমিটারে মাত্র ৩৫ মাইক্রোগ্রাম। যা ভারতের নির্ধারিত বায়ুর গুণমান সীমা ৬০ মাইক্রোগ্রামের থেকেও অনেকটা নীচে।
গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসে বায়ুর গুণমান সূচক বা AQI-র পার্থক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। AQI ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মার্চ মাসের ৩১ দিনের মধ্যে ১৩ দিন বাতাসের মান ছিল ‘খুব ভালো’ এবং ১৫ দিন ছিল ‘সন্তোষজনক’। মাত্র ৩ দিন বাতাসের মান ‘মাঝারি’ ছিল। সবথেকে ভালো খবর, গত মাসে একদিনও কলকাতার বাতাস ‘খারাপ’ পর্যায়ে পৌঁছয়নি। যেখানে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে মাত্র ২ দিন বাতাসের মান ভালো ছিল। পরিবেশবিদদের মতে, আবহাওয়া অনুকূল থাকা এবং কলকারখানার ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে কিছুটা কড়াকড়ি করার ফলেই এই সুফল মিলেছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানিয়েছেন, কলকাতার বাতাসের মানের উন্নতি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু দেশের অনেক শহরের বাতাসের মান এখনও বেশ উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, বায়ুদূষণ কমাতে গেলে বিজ্ঞানসম্মত উপায় এবং কড়া নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, দেশের মাত্র তিনটে শহর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা মেনে চলতে পেরেছে।
সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত ৯৬টি শহরের মধ্যে ৯৪টি আন্তর্জাতিক দূষণের সীমা লঙ্ঘন করেছে। অনেক শহরে দূষণ কমার বদলে উল্টে বাড়ছে। এই খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও কলকাতা বাতাসে মান বেশ ভালো। আপাতত চলতি বছরের ‘ক্লিনেস্ট মার্চ’ কলকাতার এক বড় জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।