• করণদিঘির সিপিএম প্রার্থীর মনোনয়নে সার সার গাড়ি, পুঁজিবাদের কাছে আত্মসমর্পণ? কটাক্ষ বিরোধীদের
    এই সময় | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • একটার পর একটা গাড়ি এসে থামছে টোল ট্যাক্সে। যতদূর চোখ যায় শুধু সাদা গাড়ির ভিড়। শেষ আর হয় না। রাস্তায় ধুলোর ঝড়। সেখান থেকে কয়েকটি গাড়ি নিয়ে মিছিল কর্ণজোড়ার প্রশাসনিক ভবনে গেলেন এক ব্যক্তি। দক্ষিণী সিনেমার নায়কের মতো দ্রুত পায়ে ঢুকে গেলেন অফিসের ভিতরে। তিনি উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির (Karandighi) সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সাহাবুদ্দিন (CPIM Candidate Mohammad Shahabuddin)। বিশাল গাড়ির র‌্যালি নিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন তিনি। তার পর থেকেই শিরোনামে ঘুরে ফিরে আসছে তাঁর নাম। কে তিনি? কটা গাড়ি ছিল তাঁর র‌্যালিতে।

    করণদিঘির দোমহনার ভুলকি গ্রামে বাড়ি সাহাবুদ্দিনের। এখানেই তাঁর জন্ম-কর্ম। পড়াশোনায় মন ছিল না কোনও দিনই। টেনেটুনে ক্লাস নাইন। তার পরেই লেখাপড়ায় ইতি। ১৯৭৯ সালে বাবা নিজামুদ্দিন এবং বড় দাদা মুরতাজ আলি বিড়ির ব্যবসা শুরু করেছিলেন। সাহাবুদ্দিন তখন ছোট। পড়াশোনা ছেড়ে সেই ব্যবসার গদিতেই বসে পড়েন তিনি।

    সাজানো ব্যবসা হাতে পেয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন। তবে, এই ব্যবসাকে ফুলেফেঁপে তোলার কৃতিত্ব তাঁরই। পড়াশোনা করতে ভালো না লাগলেও লেনদেন ভালোই বুঝতেন। সেটাকে সম্বল করেই ‘বিড়ি সাম্রাজ্যের’ অধীশ্বর হয়ে ওঠেন তিনি। শুরু করেন পেট্রল পাম্পের ব্যবসাও।

    ব্যবসার জগতের সঙ্গে রাজনীতির দুনিয়ার একটা সূক্ষ যোগসূত্র রয়েছে। তবে, এলাকায় সাহাবুদ্দিনের পরিবার বরাবরই বাম ঘেঁষা বলে পরিচিত। তিনিও অল্প বয়সেই বাম রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯৩-এ পান সদস্যপদ। ২০০৩ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁর স্ত্রী আজিফা খাতুনও সিপিএম নেত্রী। জেলা পরিষদের সদস্যও হয়েছেন। এ বার সাহাবুদ্দিনকে প্রার্থী করে রীতিমতো চমকে দিয়েছে সিপিএম।

    কিন্তু বাম প্রার্থীর এমন গাড়ির বহর নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়া দেখে চমকে গিয়েছেন অনেকেই। বিরোধীরা কটাক্ষের সুরে বলছেন, পুঁজিবাদের পায়ে আত্মসমর্পণ। এ সব অবশ্য গায়ে মাখছেন না সাহাবুদ্দিন। একটা সাদা লুঙ্গি আর পাঞ্জাবি পরে হাঁটতে হাঁটতে বলে দিলেন, ‘কে গিয়েছে, কটা গাড়ি ছিল, আমিও জানি না। কেউ আমার থেকে তেলের পয়সা চায়নি। আমিও দিইনি।’ ব্যস, সাফ কথা।

    করণদিঘি বরাবরই তৃণমূলের দখলে থাকে। ২০২১-এর নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে ৩৭ হাজার ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী গৌতম পাল। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিজেপি। তবে এ বার চতুর্মুখী লড়াই। আর সেখানে বড় ফ্যাক্টর সাহাবুদ্দিন। হাসতে হাসতে বলে দিলেন, ‘জয় নিয়ে আমি একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী।’ এখন ‘হাজিসাহেব’ শেষ হাসি হাসেন কি না, সেটাই দেখার।

  • Link to this news (এই সময়)