শিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধতে গিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন নরেন্দ্র মোদী। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের সভা থেকে পার্থের নাম উচ্চারণ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুব সমাজকে ঠকিয়েছে তৃণমূল। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে দেখা গেল, শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠের বাড়িতে কোটি কোটি নগদ টাকা! বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সব আর চলবে না। সব হিসাব হবে।’
পরে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমুন্ডির সভা থেকেও পার্থর প্রসঙ্গ তুলেছেন মোদী। তিনি বলেছেন, ‘দিনাজপুরের বিশ্ববিদ্যালয় তৃণমূলের দুর্নীতির বড় জায়গা। খবর কাগজে পড়েছি, তাদের নিজের ক্যাম্পাস নেই। কলেজে বিশ্ববিদ্যালয় চলছে। স্থায়ী শিক্ষক নেই। অস্থায়ী শিক্ষকেরা দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা পান। এই ভাবে যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে তৃণমূল। পড়ার সুযোগ নেই রাজ্যে। কাজের জন্যও বাইরে যেতে হয়। পড়াশোনা করে চাকরি করতে গেলে মন্ত্রীই চাকরি লুট করেন। মানুষ দেখেছেন মন্ত্রীর বাড়িতে টাকার পাহাড় উদ্ধার। এনাফ ইজ় এনাফ। আর নয়। এই অবস্থা বদলানোর জন্য বিজেপিকে সরকারে আনুন।’
ঘটনাচক্রে, শনিবার সকালেই কলকাতায় পার্থের নাকতলার বাড়িতে হানা দেয় ইডি। সূত্রের খবর, এসএসসি মামলায় জামিন পাওয়ার পরেও পার্থকে একাধিক বার ডেকে পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্থ যাননি। সেই কারণেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে সরাসরি তাঁর বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে নাকতলার বাড়ি থেকেই পার্থকে গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হওয়ার পরেই পার্থ এবং অর্পিতা দু'জনেই গ্রেপ্তার হন। তিন বছরেরও বেশি সময় তিনি জেল খেটেছেন এসএসসি-র দুর্নীতি মামলায়। জামিন পেয়েছেন গত বছর। খাতায়কলমে পার্থ এখনও বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক। তবে এ বার আর ওই কেন্দ্র থেকে তাঁকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। বেহালা পশ্চিমে লড়ছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়।