ইস্টবেঙ্গল ৩ (এডমুন্ড, বিপিন, নন্দকুমার)
চেন্নাইয়িন ১ (ইরফান)
সব ম্যাচ কার্যত ‘ফাইনাল’ ইস্টবেঙ্গলের কাছে। লিগ টেবিলের দ্বাদশ স্থানে থাকা চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে নামার আগে যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন লাল-হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজো। সেই চেন্নাইকে হারাতে যথেষ্ট কালঘাম ছোটাতে হল হল পিভি বিষ্ণু, সল ক্রেসপোদের। তবে ফুটবলে ৩ পয়েন্টই শেষ কথা। অভিজ্ঞতা কাজে চেন্নাইয়িনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে লিগের লড়াইয়ে ফিরল ইস্টবেঙ্গল।
চেন্নাইয়িন এফসির ঘরের মাঠ জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ছিল ম্যাচ। চেন্নাইয়ে হলেও অনেক ইস্টবেঙ্গল সমর্থক স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন। সদ্য প্রয়াত হয়েছেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আরেকটি পরিচয়, তিনি আর পাঁচটা বাঙালির মতোই ফুটবল পাগল। ঘোষিতভাবে ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক। মনেপ্রাণে লাল-হলুদ শিবিরের উন্নতি চাইতেন। এমনকী তাঁর জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘সহজ কথা’র শেষ এপিসোডটিতেও কথা বলেছিলেন প্রিয় ইস্টবেঙ্গলকে নিয়েই। প্রতিভাবান অভিনেতার প্রয়াণে শোকাহত লাল-হলুদ সমর্থকরা। তাঁর সম্মানে বিশেষ ব্যানার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন সমর্থকরা।
শনিবার শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে নামে ইস্টবেঙ্গল। যার ফলও মেলে হাতেনাতে। ৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রুজো বাহিনী। চেন্নাই ফুটবলার এলসিনহোর কাছ থেকে বল ছিনিয়ে এডমুন্ড লালরিনডিকাকে লক্ষ্য করে অনবদ্য পাস বাড়ান ক্রেসপো। গোল করতে কোনও ভুল করেননি মিজো ফুটবলার। এরপর সহজ গোল মিস মিগুয়েলের। ২০ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল চেন্নাইয়িনও। ইরফানের হেড ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। ২৭ মিনিটে লাল-হলুদ ডিফেন্সের ভুলে ইরফানের সমতায় ফেরে চেন্নাই। এর ঠিক দু’মিনিটের মধ্যেই সুবর্ণ সুযোগ এসে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। ফাঁকা গোলেও বল ঠেলতে পারেননি বিষ্ণু। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর লাইন থাকে ১-১।
দ্বিতীয়ার্ধে আনোয়ার আলিকে তুলে নন্দকুমারকে নামান লাল-হলুদ কোচ। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল বক্সে শুরু থেকেই চাপ বাড়ান চেন্নাই ফুটবলাররা। বহুক্ষণ লাল-হলুদ রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত রাখে চেন্নাই। ৭১ মিনিটে পরপর দু’বার সহজ সুযোগ মিস করেন ইউসেফ এজেজারি। কিন্তু তখনও আসল টুইস্ট বাকি। ৮৩ মিনিটে বিপিন সিংয়ের হেডে ব্যবধান বাড়ান বিপিন সিং। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময় স্কোর লাইন ৩-১ করেন পরিবর্ত হিসাবে নামা নন্দকুমার। এই জয়ের পর পয়েন্ট টেবিলে অনেকটাই উঠে এল ইস্টবেঙ্গল।