এক সময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা।দলের সুপ্রিমোর জনসভায় তিনি প্রথম সারিতেই থাকবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু, শনিবার ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের জনসভায় তাঁকে দেখা গেল, তবে, প্রথম সারিতে তাঁর ঠাঁই হয়নি। পিছনের সারিতে তাঁকে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে উঠতেই মুহূর্তে মধ্যে মঞ্চের ছবিই বদলে গেল। পিছনের সারিতে বসে থাকা ছত্রধরকে মাহাতোকে কাছে ডেকে নিলেন দলনেত্রী, তার পরে কী হলো?
এমনিতেই, ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে দলের হয়ে প্রচারে দেখা যায়নি ছত্রধর মাহাতোকে। ভোট ময়দানে ছিলেন না তাঁর স্ত্রী এবং জেলা মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী নিয়তি মাহাতো। যদিও এ দিন ঝাড়গ্রামের জামদা সার্কাস ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার মঞ্চে দেখা গেল তাঁদের। শনিবারের এই মঞ্চের থাকার পর্বটিকেও বেশ কয়েকভাগে ভাগ করা যায়।
এ দিন জঙ্গলমহলের চারটি আসনের দলীয় প্রার্থীদের প্রচারের জন্য ঝাড়গ্রামের সভা করেছেন মমতা। দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ মঞ্চে উঠেছিলেন সস্ত্রীক ছত্রধর। ততক্ষণে মঞ্চের সামনের সারিতে বসে গিয়েছেন অন্য নেতারা। ফলে তৃতীয় সারিতে জায়গা হয় ওই দম্পতির। মঞ্চে ওঠার পর থেকে জেলার অন্য নেতাদের সঙ্গে তাঁদের বিশেষ কথা বলতে দেখা যায়নি। পৌনে একটা নাগাদ মমতার হেলিকপ্টার নামে। তার পরেই মঞ্চে উঠে ছত্রধর মাহাতোকে সামনের সারিতে নিয়ে আসেন মমতা। এরপরে হঠাৎ ছত্রধরকে কাছে ডেকে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ে ছত্রধর এসে মমতাকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। তখন ছত্রধরের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ একান্তে কথা বলতেও দেখা যায় মমতাকে।
লালগড় আন্দোলনের সময় থেকে রাজ্যে পরিচিত মুখ ছত্রধর। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কনভয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল ছত্রধরের। তার পরে একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলে ছিলেন। দীর্ঘ কারাবাসের পরে ২০২০ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এখন রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন তিনি। কিন্তু এ বারের বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পরে তাঁকে তৃণমূলের হয়ে মাঠে-ময়দানে তেমন দেখা যায়নি। তাঁর স্ত্রীকেও দেখা যায়নি। বরং একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের সামনে ‘বেসুরো’ হতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তারপরে এ দিন মমতার সঙ্গে তাঁর কথা হলো। তা হলে কি এ বার তৃণমূলের হয়ে তাঁকে ফের ময়দানে দেখা যাবে?
এই উত্তর অবশ্য এ দিন স্পষ্ট করেননি ছত্রধর মাহাতো। এই সময়কে তিনি বলেন, ‘বেরোলে দেখবে। কাজ করতে বলেছে। যদি কাজের পরিসর পাই, অবশ্যই কাজ করব!’ তবে তিনি জানিয়েছেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে প্রচারে নামার নির্দেশ দিয়েছেন। দলের উপর অভিমান কি ভেঙে গিয়েছে? ছত্রধরের উত্তর, ‘সেটা সময় বলবে!’ রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে ধন্দ রয়েছে। কারণ এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চ ছাড়ার পরেই, বাকি নেতাদের সঙ্গে কোনও কথা না বলেই সস্ত্রীক মঞ্চ ছাড়েন ছত্রধর।
জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মুর বক্তব্য, ‘ছত্রধর রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। উনি দলের সম্পদ। তাঁকে প্রচারে নামার নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী। ওঁকে এ বার প্রচারে পাব বলে আশাবাদী।’
এ দিন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা রাজ্য তৃণমূলের সহ-সভাপতি চূড়ামণি মাহাতোকেও মঞ্চের দ্বিতীয় সারিতে বসানো হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সামনের সারিতে নিয়ে আসেন। মঞ্চের দু’দিক ঘুরে আদিবাসী নেতা রবিন টুডুকে দেখতে না পেয়ে মমতা তাঁর স্ত্রী তথা জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান বিরবাহা সোরেন টুডুর কাছে রবিনের খোঁজ করেন। তখন বিরবাহা সোরেন টুডু বলেন,‘তাঁর তো ভোটের ডিউটি পড়েছে।’ এ কথা শুনেই মমতা খানিকটা রেগে যান বিরবাহার বিরুদ্ধে। সভাশেষে বিরবাহা সোরেন টুডু ‘এই সময়’কে বলেন,‘দিদি বললেন ভালো করে কাজ করো। চারে চার হওয়া চাই। ও(রবিন টুডু) তো পশ্চিম মেদিনীপুরে চাকরি করে। সেখানকার নেতাদের কাছে কাগজ দেওয়া আছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভোটে ডিউটি পড়েছে। আমরা কী ডিউটি কাটাতে পারি? চাকরিটা তো করতেই হবে। চুরি করে তো খেতে পারব না। চাকরিটাই সম্বল!’