সভাস্থল প্রায় ফাঁকাই। সামনের দিকের সারিতে বসেছিলেন হাতে গোনা কয়েক জন। কিন্তু পিছনের দিকে সব ক'টি চেয়ারই খালি। সপ্তাহান্তে রাজ্যে ভোটের প্রচারে এসে পশ্চিম বর্ধমানে কার্যত ফাঁকা মাঠেই সভা করে গেলেন বিজেপি নেত্রী তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা।
শনিবার গোটা দিন জুড়েই রাজ্যে জনসভা, রোড শো করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কর্মসূচি ছিল রেখারও। সেই মতো শনিবার বেলার দিকে অন্ডাল বিমানবন্দরে নামেন রেখা। তার পর সেখান থেকে তিনি সোজা চলে যান রানিগঞ্জে। সেখানেই তাঁর প্রথম সভা ছিল। কিন্তু রানিগঞ্জের ওই সভায় তেমনই ভিড়ই হল না। রেখার কথা শোনার জন্য তেমন কোনও শ্রোতাই ছিলেন না দর্শকাসনে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সামনের সারিতে কয়েক জন বিজেপি কর্মী বসে ছিলেন মাত্র। বাকি সব চেয়ারই ফাঁকা ছিল।
সভাস্থল ফাঁকা দেখে বেশি ক্ষণ বক্তৃতাও করেননি রেখা। অল্প কিছু ক্ষণ বলেই সভাস্থল ছাড়েন তিনি। তবে যতটুকু বলেছেন, প্রত্যাশিত ভাবেই রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন তিনি। রানিগঞ্জের পর রেখার পরবর্তী সভা ছিল গলসি বিধানসভার পানাগড়ে। বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, সেখানেও লোক কম হতে পারে, এই আশঙ্কায় সভাস্থল বদলে পানাগড় বাজার সংলগ্ন একটি রাস্তার ধারে সভার আয়োজন করা হয়। যদিও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু বলতে চায়নি বিজেপি।
তবে ভোটের মুখে সভাস্থলের এই হাল নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন দলের স্থানীয় নেতৃত্ব। বিষয়টি আরও গুরুতর, কারণ রেখাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পাঠিয়েছেন। ফলে অনুমান করাই যায়, সভাস্থল 'জনশূন্য' থাকার রিপোর্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছবে। তবে স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের যুক্তি, শনিবার দিনভর মোদী-শাহের সভা ছিল। ফলে দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা সে দিকেই বেশি নজর দিয়েছেন। তার ফলে রেখার সভা পুরোপুরি ভরানো সম্ভব হয়নি।