হাই কোর্টে মামলা,প্রকাশ্যে আনা হবে 'বিতর্কিত' ভিডিও
আজকাল | ১২ এপ্রিল ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক : সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে সম্প্রতি ঘোর বিপাকে পড়েছেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। ভিডিওটিতে (যার সত্যতা আজকাল ডট ইন যাচাই করেনি) হুমায়ুন কবীরকে মুর্শিদাবাদের তাঁর পরিকল্পিত বাবরি মসজিদ এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তার যোগ এবং টাকা নেওয়া নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছে।
এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীরের 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র সঙ্গ ছেড়েছেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসির রাজনৈতিক দল মিম। ওই বিতর্কিত ভিডিওর জন্য হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মামলাও রুজু হয়েছে।
শনিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থেকে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান," ওই ভিডিওর জন্য শনিবারই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা রুজু হচ্ছে। এই মামলার জন্য যাবতীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে দিয়েছি।" সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ুন তাঁর দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি পীরজাদা খোবায়েব আমিন এবং পশ্চিমবঙ্গের মিম নেতৃত্ব সম্পর্কেও একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই হুমায়ুন কবীর ,বিজেপির একাধিক নেতা এবং উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির ছবি দেখিয়ে দাবি করেন," আগামী দু-তিন দিন আপনারা একটু অপেক্ষা করুন। তারপর পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের জন্য অভিষেক ব্যানার্জি এবং মমতা ব্যানার্জি কী করেছে তাও আমরা দেখাবো। তারা কতটা বাংলার মুসলমানদের জন্য হিতাকাঙ্খী এবং কোথায় গিয়ে আরএসএস-এর সঙ্গে বৈঠক করেন তাও সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে ডেকে আমি দেখাবো। সেই সমস্ত তথ্য তৈরির কাজ চলছে।" নিজের বিতর্কিত ভিডিওটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর আজ বলেন," যে ঘটনার ছবি দেখানো হচ্ছে তার প্রকৃত ভিডিওটি প্রায় ৫০ মিনিটের। কিন্তু ভিডিওটি এডিট করে ১৯ মিনিটের করা হয়েছে। আমি দু-এক দিনের মধ্যেই পুরো ভিডিও দেখিয়ে দেবো। গোটা ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।"
এর পাশাপাশি হুমায়ুন দাবি করেছেন, ওই ভিডিওর পেছনে থাকা মূল কুশীলবদেরও তিনি 'তুলে এনে' সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করবেন। তিনি দাবি করেন,"তৃণমূল কংগ্রেস আমাকে সাসপেন্ড করার পর শিলিগুড়ি থেকে মহারাজের বেশে একজন এবং দিল্লির সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একজন দেখা করতে এসেছিলেন। তারাই এই কাণ্ড করেছেন।"
রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই ইয়াসের হায়দারকে পাশে বসিয়ে হুমায়ুন কবীর দাবী করেন- তৃণমূল নেতৃত্ব ওয়াকফ বোর্ড নিয়ে বহু কথা বলেন অথচ রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ওয়াকফ বোর্ডের প্রায় পাঁচ বিঘা জায়গা দখল করে সেখানে টাইলস-মার্বেলের ব্যবসা করছেন।
হুমায়ুন কবীরের 'অনৈতিক' কাজের প্রতিবাদ করে শুক্রবারে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র রাজ্য সভাপতির পদ ছেড়েছেন পীরজাদা খোবায়েব আমিন। আজ তাঁকেও এক হাত নেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রতিষ্ঠাতা।
হুমায়ুন বলেন," ওই ব্যক্তি নিজেকে রাজ্য কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বলে দাবি করে আমার সঙ্গে পরিচয় করেছিলেন এবং আমার সঙ্গে বহরমপুরের একটি হোটেলে দেখা করতে এসেছিলেন। 'শুভঙ্কর সরকারের কংগ্রেসে' সম্মান পাচ্ছে না বলে উনি আমার কাছে কাকুতি মিনতি করেছিলেন আমার দলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার জন্য। খোবায়েবের একটি 'খারাপ ছবি' আমার সামনে আসায় আমি তাঁকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। সেই সময় আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন খোবায়েব।" হুমায়ুনের দাবি," রাজ্য সভাপতির পদ পেয়ে খোবায়েব কলকাতা এবং সংলগ্ন একাধিক এলাকায় আমার দলের প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব করতে থাকে। যদিও সব নামে আমি সিলমোহর দিইনি। কয়েকটি নাম বাদ দিতেই সেই প্রার্থীরা আমাকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তাঁদের কাছ থেকে ২-৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিল খোবায়েব, 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রতীক দেওয়ার জন্য। কলকাতার এক প্রার্থীকে ও ৩৩ লক্ষ টাকায় আমাদের দলের প্রতীক 'বিক্রি' করেছে। যদিও আমরা তাঁকে ভোটে সমর্থন করছি না।"
হুমায়ুনের আরও অভিযোগ," রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রার্থী দেওয়ার নাম করে খোবায়েব 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা তুলেছেন।" তাঁদের মধ্যে আবার পূর্বস্থলী কেন্দ্রের মতো একাধিক প্রার্থী তৃণমূলের কাছে 'বিক্রি'ও হয়ে গিয়েছে বলে আজকের সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন জানিয়েছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন আরও জানিয়েছেন," রাজ্যের ১৮১ টি আসনে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রার্থী দেওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে শেষ পর্যন্ত ১২৯ টি কেন্দ্রে তাঁর দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন। মিমের ১৪ টি কেন্দ্রে প্রার্থী দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ১২ টি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যে মিমের সঙ্গে হুমায়ুনের দলের জোট ভেঙে যাওয়ার জন্য মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি এবং মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল শেখকে দায়ী করে হুমায়ুন বলেন," ওই দুই নেতার সঙ্গে জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান এবং তৃণমূলের প্রতিনিধির ২০ কোটি টাকার 'ডিল' হয়েছে। ইতিমধ্যেই তারা ২ কোটি টাকা 'অ্যাডভান্স' পেয়েছেন।"
হুমায়ুন অভিযোগ করেন," আমার যে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এসেছে তার সত্যতা যাচাই না করেই মিমের এই নেতারা তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে তা আসাউদুদ্দিন ওয়াইসি সাহেবকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এবং সেই কারণেই এই জোট ভেঙে গিয়েছে।" যদিও মিমের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল শেখ বলেন," হুমায়ুন কবীরের মাথা কাজ করছে না। যতদিন না উনি প্রমাণ করতে পারবেন ওই ভিডিও 'ফেক' ততদিন মিম দল উনার পাশে থাকতে পারে না। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর আমরা ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন সাহেবকে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছিলাম। তার ভিত্তিতেই দল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।" তিনি আরও বলেন ,"আসন্ন নির্বাচনে আমরা তৃণমূল কংগ্রেসকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়বো না। আগামী ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় আমাদের দলের প্রার্থী ইমরান সোলাঙ্কির সমর্থনে তিন দিন প্রচার করবেন। মিম রাজ্যের একাধিক আসনে জয়ী হবে। হুমায়ূনের দলের বহু প্রার্থী এখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। উনি নিজেই আমাদের দলের নাম ব্যবহার করে ভোটে জিততে চেয়েছিলেন। "