আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির অন্দরে ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছিল। স্থানীয়স্তরে একাংশের নেতা, কর্মীরা প্রার্থী বদলের দাবিও তুলেছিলেন। তবে সেই দাবি কার্যত উপেক্ষিত হওয়ায় এবার প্রকাশ্যে এসে পড়েছে দলের অন্তর্কলহ। ফলস্বরূপ, গেরুয়া দলের সরকারি প্রার্থীর পাশাপাশি মাঠে নেমে পড়েছে গোঁজপ্রার্থীও। ফলে ভোটের আগে দিনহাটা কেন্দ্রের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মোড়।
দিনহাটা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন রাজ্যের বিদায়ী উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির তরফে প্রার্থী করা হয়েছে অজয় রায়কে। কিন্তু এই লড়াই এখন আর সরল সমীকরণে সীমাবদ্ধ নেই। বিজেপিরই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন অনিমেষ বর্মন। তিনি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি পেয়ে ‘দূরবীন’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অনেকের মতে, তৃণমূল বনাম বিজেপির লড়াইয়ের বদলে দিনহাটায় এবার বিজেপি বনাম বিজেপির লড়াই বেশি প্রকট। নির্বাচনের মুখে এই ধরনের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি ও নেতৃত্বও প্রশ্নের মুখে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য এবং ছিটমহল আন্দোলনের অন্যতম মুখ দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বিক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, দলের একাংশের সমর্থনে অনিমেষ বর্মনকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “দল এমন প্রার্থীদের টিকিট দিচ্ছে যাঁদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। আমরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারিনি।” তিনি আরও জানান, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দলের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। যা নেতৃত্বকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
অন্যদিকে, অনিমেষ বর্মন নিজেও জানিয়েছেন, তিনি এই নির্বাচনে বিজেপির সরকারি প্রার্থীর বিরুদ্ধেই লড়াই করছেন। তাঁর বক্তব্য, “এটা আদর্শের লড়াই। দিনহাটায় আমরা চাই পরিষ্কার ভাবমূর্তির প্রার্থী।”
বেজায় অস্বস্তিতে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, শনিবার জেলা স্তরে বৈঠক করে এই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই বিভাজন মিটিয়ে একজোট হওয়ার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে হাতিয়ার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপির অন্দরের এই দ্বন্দ্বই প্রমাণ করছে যে দলটি সংগঠনের দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সব মিলিয়ে দিনহাটা এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত এই ত্রিমুখী লড়াই ভোটের ফলে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।