• কুড়মালি ভাষা নিয়ে বিজেপিকে পালটা, আদিবাসীদের সারি-সারনা ধর্মকে স্বীকৃতির ঘোষণা মমতার
    প্রতিদিন | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ছাব্বিশের নির্বাচনে (Bengal Election 2026) রাজনৈতিক দলগুলির অন্যতম ভোটব্যাঙ্ক আদিবাসী সম্প্রদায়। তাঁদের কাছে টানতে তৎপর সব শিবিরই। একদিকে আদিবাসীদের ভাষার স্বীকৃতি নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবিকে ক্ষমতায় এলে পূরণ করার ঘোষণা করছে বিজেপি। অন্যদিকে, রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো শনিবার ঝাড়গ্রামের নির্বাচনী প্রচার থেকে আশ্বাস দিয়েছেন, আদিবাসীদের সারি-সারনা ধর্মকে এবার স্বীকৃতি দেওয়ার পালা। চতুর্থবার তৃণমূল সরকার গঠিত হলে সেই কাজ হবে। দুই শিবিরের দুই ঘোষণার মাঝে নিজেদের জাতিসত্ত্বা বজায় রাখতে কোন দিকে ঝুঁকবেন আদিবাসীরা, সেই অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গিয়েছে।

    আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ঝাড়গ্রামের সবকটি আসনে ভোটগ্রহণ। তার আগে হেভিওয়েটদের প্রচারে গমগম করছে শাল, পিয়ালের জঙ্গল। শনিবার ঝাড়গ্রামের জামদার সার্কাস ময়দানে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করতে গিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখান থেকেই তিনি বলেন, ”বিধানসভা ভোটে জিতে তৃণমূল ক্ষমতায় ফেরার পর আদিবাসীদের সারি-সারনা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি।” আদিবাসীরা এই ধর্মাচরণ করলেও স্বীকৃতি নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার সেই ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা করলেন।

    একইভাবে তফসিলি জনজাতিদের আরেক দাবি, তাঁদের কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই দাবি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের দরবারে পৌঁছে দিয়েছে রাজ্য সরকার। মাস কয়েক আগেই এনিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। তবে কেন্দ্র থেকে তার কোনও উত্তর আসেনি। ইতিমধ্যে ভোট এসেছে। ফলে কেন্দ্রের কাছে ওই চিঠি হয়ত ফাইলের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার ছাব্বিশের ভোটের সংকল্পপত্র বা ইস্তেহার প্রকাশ করে অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় এলে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হবে কুড়মালি ভাষা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর পালটা দিয়েই শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিলেন, আদিবাসীদের সারি-সারনা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)