আত্মরক্ষার জন্যই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে ‘সমর্থন’ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এই অভিযোগ করলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। শনিবার জঙ্গিপুরের সভা থেকে মোদি নাম না করে ‘এআই ভিডিও’ প্রসঙ্গ তোলেন। হুমায়ুনের ‘ডিল’ ভিডিও ইস্যুতেই প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেছেন বলে দাবি রাজ্যের শাসকদলের। তৃণমূলের অভিযোগ, মোদির মুখে এই মন্তব্য হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির আঁতাঁত আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল জানান, বিতর্কিত ভিডিওতে হুমায়ুন পিএমও-র উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর আরও অনেক কিছু ফাঁস হয়ে যেতে পারে, তাই আত্মরক্ষার জন্য হুমায়ুনের পাশে দাড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে হুমায়ুনের ‘মুখপাত্র’ বলেও কটাক্ষ করেন কুণাল।
ভোটের আবহে বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুনের ‘ডিল’ ভিডিও ঘিরে কার্যত ঝড় উঠেছে বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে। ভোটের আগে বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই একের পর এক ধাক্কায় কার্যত দফারফা হয়েছে হুমায়ুন কবীরের নতুন দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। জোটসঙ্গী ওয়েইসির মিম সঙ্গত্যাগ করেছে হুমায়ুনের। তাঁর আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি-সহ অনেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দল থেকে সরেছেন শয়ে শয়ে নেতা, কর্মীরা। এত কিছুর পরেও গোটা ঘটনাকে এআই দিয়ে সাজানো বলে গা থেকে দায় ঝাড়তে চেয়েছিল হুমায়ুন কবীর। এবার জঙ্গিপুরের জনসভা থেকে নরেন্দ্র মোদির ‘এআই ভিডিও’ মন্তব্য ঘিরে কার্যত মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মোদি বলেছেন, “ভোট যত এগোচ্ছে, তৃণমূল নিজের হার দেখতে পাচ্ছে। তাই ওরা এআই ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও বানিয়ে মিথ্যা প্রচার করছে। অসম, পুদুচেরিতেও এটা করেছে। আমি সতর্ক করছি, এগুলোতে ভুলবেন না। দলে দলে ভোট দিয়ে বিজেপিকে জয়ী করুন।”
এই ইস্যুতে এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে কুণাল ঘোষ বলেন, “ডিলের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর যেখানে হুমায়ুনের দল থেকে একের পর এক নেতৃত্ব ইস্তফা দিচ্ছেন, সেখানে তাঁর দলে মুখপাত্র পদে যোগ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। যেভাবে তিনি হুমায়ুনকে ডিফেন্ড করতে নেমেছেন, তাঁর থেকে প্রমাণিত যে ১০০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে। এর তদন্ত দরকার।” কুণালের অভিযোগ, হুমায়ুন ভিডিওতে পিএমও-র লোকজনের নাম বলায় ভয় পেয়েছেন মোদি। তাই আত্মরক্ষার জন্য এসব কথা বলছেন তিনি। সাহস থাকলে এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআইকে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন কুণাল। পাশাপাশি তাঁর দাবি, এই ঘটনার তদন্তে নজরদারি চালাক আদালত। ফরেন্সিক পরীক্ষা করলেই জানা যাবে ভিডিওটি আসল নাকি এআই দিয়ে বানানো। তদন্তের আগেই কেন মোদি হুমায়ুনের ভিডিওকে এআই ভিডিও বললেন তা নিয়েও আক্রমণ করেন তৃণমূল নেতা। কুণালের কথায়, “মোদির গ্যারান্টি হুমায়ুনের জন্য কেন? এতে আপনার (মোদি) কী স্বার্থ?”