বাংলায় বাবরের সরকার চলছে, তাই বাবরের ছেলে হুমায়ুন বাবরি মসজিদ তৈরি করছেন। বিজেপির সঙ্গে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের আঁতাঁতের অভিযোগের আবহে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। হুমায়ুন ইস্যুকে ‘নতুন নাটক’ বলে তোপ দেগেছেন তিনি। তৃণমূলের অভিযোগ, সম্প্রতি হুমায়ুনের সঙ্গে হাজার কোটি টাকার ডিলের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ইমেজ রক্ষার্থে ব্যস্ত বিজেপি। সেই কারণে হুমায়ুনের (Humayun kabir) সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে তৎপর তারা।
শনিবার আরামবাগে বিজেপি প্রার্থী হেমন্ত বাগের প্রচারে রোড-শো করেন শমীক ভট্টাচার্য। রোড শো’টি আরামবাগের দৌলতপুর থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় বাসুদেবপুর মোড়ে। সেই রোড শো থেকে শমীক বলেন, “শিল্পপতিদের বলব, আর তিনমাস অপেক্ষা করুন। এ রাজ্যের শ্রী ফিরবে। তাই বাংলায় সকলের স্বার্থে পরিবর্তন আনতেই হবে।” পাশাপাশি হুমায়ুন ও তৃণমূলের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে শমীক বলেন, “হুমায়ুন কে? পরিচয় কী? তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। বাবরই তৃণমূল। হুমায়ুনই তৃণমূল আর তৃণমূলই হুমায়ুন। এভাবেই রাজত্ব চলছে।”
এছাড়াও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে তোপ দেগেছেন শমীক। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশের কারণে সীমান্তবর্তী জেলাগুলির জনবিন্যাস পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। শুধু বাংলায় নয়, বিহার, উত্তরপ্রদেশের জনবিন্যাসও বদলে দিয়েছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। এই লড়াই শুধু বিজেপির নয়, সব দলের , সব মানুষের বলে দাবি করেছেন শমীক।
উল্লেখ্য, ভোটের (Bengal Election 2026) আবহে বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুনের ‘ডিল’ সংক্রান্ত ভিডিও ঘিরে কার্যত ঝড় উঠেছে বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে। ভোটের আগে বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। গোটা ঘটনাকে এআই দিয়ে সাজানো বলে গা থেকে দায় ঝাড়তে চেয়েছিল হুমায়ুন কবীর। জঙ্গিপুরের জনসভা থেকে নরেন্দ্র মোদিও ‘এআই ভিডিও’ মন্তব্য করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। এর থেকে হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির আঁতাঁতের অভিযোগ কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। এবার বিজেপির নেতারা হুমায়ুনের সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে ময়দানে নেমেছেন।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা স্বপন নন্দীর অভিযোগ, “শমীক ভট্টাচার্য যাত্রা করছেন। হুমায়ুনের সঙ্গে বিরোধী দলনেতার কথোপকথন ফাঁস হয়ে গিয়েছে। সেই কারণে এসব কথা বলছেন শমীক। বাংলার মানুষের ভোট কাটা হলে বাংলার মানুষ বিজেপিকে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করবে। এখনও প্রতিশ্রুতি মতো ১৫ লক্ষ টাকা দেয়নি বিজেপি, ২ কোটি করে চাকরি দেওয়া হয়নি। আগে উত্তরপ্রদেশে চাকরি ও টাকা দিয়ে দেখাক বিজেপি।”