ছাব্বিশে বঙ্গজয়ের লক্ষ্যে ভুরি ভুরি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি প্রকাশ করেছে সংকল্পপত্র বা ভরসার শপথ। শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতা থেকে তা প্রকাশ করার পাশাপাশি তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে যথেষ্ট আক্রমণাত্মক বক্তব্য পেশ করেছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, শাহর ভাষণ থেকে স্পষ্ট যে বাংলার পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আর তাতেই তীব্র আপত্তি রাজ্যের শাসকদলের। শুক্রবার বিকেলে তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) কেন্দ্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, ”শেখ হাসিনা দিল্লিতে কী করছেন? কোন শিল্পপতিকে বাঁচাকে হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে? যখন বাংলাদেশে চিন্ময় প্রভুর উপর লাগাতার অত্যাচার হয়েছিল, তখন দিল্লি কোন ভূমিকা নিয়েছে?”
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অভিষেকের এহেন প্রশ্নের প্রেক্ষাপট বেশ পুরনো। বাংলা ভাষায় কথা বলায় ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ, বাংলা আর বাংলাদেশিদের এক করে দেখছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, যা মোটেই কাম্য নয়। এসআইআরে প্রচুর বাংলাদেশি, রোহিঙ্গার নাম বাদ পড়বে বলে আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। যদিও এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, বাদ পড়া বেশিরভাগই হিন্দু বাঙালি।
শুক্রবার অমিত শাহ কলকাতা থেকে বিজেপির সংকল্পপত্র (BJP’s Manifesto) প্রকাশ করেছেন। তা নিয়ে অভিষেকের বক্তব্য, ”আজ শাহ বলে দিয়েছেন, মুখ ফসকে বলে দিয়েছেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে দিল্লি এবং গুজরাত থেকে পরিচালিত হবে। তাহলে শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় কেন? উনি অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী? কোন শিল্পপতিকে বাঁচাতে হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে মোদি সরকার?” তাঁর আরও প্রশ্ন, ”বাংলাদেশে যখন সাধুসন্তদের যখন অত্যাচার হয়েছিল, চিন্ময়ানন্দ প্রভুর উপরে যখন অত্যাচার হয় , তখন মোদি সরকার কী পদক্ষেপ করেছে?”