'বালেন শাহের মতো নেতা চাই,' ভোটমুখী বাংলায় অনেকেরই মনে 'নেপাল মডেল'
আজ তক | ১২ এপ্রিল ২০২৬
Balen Shah Bengal: ভিআইপির জন্য রাস্তা আটকানো যাবে না। মন্ত্রীদের ছেলেদের সরকারি স্কুলে পড়াতে হবে। সরকারি কর্মীদের ওয়ার্ক রিপোর্ট দেওয়া বাধ্যতামূলক। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের (Balen Shah) একের পর এক নীতিতে মোহিত বঙ্গবাসী। অনেকের মুখেই শোনা যাচ্ছে একটাই কথা, 'এমন নেতা যদি বাংলাতেও থাকত!' VIP সংস্কৃতি ভাঙা থেকে শুরু করে শিক্ষা ও প্রশাসনে কড়া পদক্ষেপ; ক্ষমতায় এসেই নজর কেড়েছেন বালেন। এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ, VIP সংস্কৃতির অবসান। কোনও নেতা বা আধিকারিক আর রাস্তায় নিজের জন্য ট্র্যাফিক থামাতে পারবেন না। সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করতে হবে। এই সিদ্ধান্তই সাধারণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে।
কলকাতার এক গাড়িচালক সমীর দাস বলছেন, 'দেখুন, আমাদের এখানে তো মন্ত্রী বের হলেই রাস্তা বন্ধ। আমরা হাঁ করে ট্র্যাফিকে দাঁড়িয়ে থাকি। বালেন শাহের মতো কেউ এলে এই ঝামেলা থাকত না।'
শুধু তাই নয়, প্রশাসনিক কাজেও বড় পরিবর্তন এনেছেন। বালেন শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু নিয়ম মেনে কাজ করলেই হবে না, কাজের রেজাল্টও দেখাতে হবে। সরকারি অফিসে দেরি, অজুহাত; এসব আর চলবে না।
জেন জি বিপ্লব দিয়েই ক্ষমতায় এসেছেন বালেন। কিন্তু আসার সঙ্গে সঙ্গেই ছাত্র রাজনীতিতেও লাগাম টেনেছেন। স্কুল-কলেজে রাজনৈতিক সংগঠনের প্রভাব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছাত্ররা রাজনীতি করতেই পারেন। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তা করা যাবে না।
হাওড়ার এক গৃহবধূ সুস্মিতা বলছেন, 'মেয়ে কলেজে পড়ে। ওখানে অনেকেই ইউনিয়ন করে শুনেছি। যদি এমন নিয়ম এখানে হত, তাহলে ভাল হত।'
শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় বদল এনেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রী-আমলাদের সন্তানদের সরকারি স্কুলেই পড়তে হবে; এই নিয়ম চালু করেছেন তিনি। এর ফলে সরকারি স্কুলের মান বাড়বে বলেই মনে করছেন অনেকে। পাশাপাশি, বিদেশি নামের স্কুলগুলিকে স্থানীয় নাম দিতে বলা হয়েছে।
শুধু প্রশাসন বা শিক্ষা নয়। শহর পরিষ্কার রাখা, মহিলাদের নিরাপত্তা, ডিজিটাল ব্যবস্থার উন্নয়ন; সব ক্ষেত্রেই নজর দিয়েছেন বালেন শাহ। কাঠমান্ডু শহরে বেআইনি নির্মাণ ভাঙা, আবর্জনা পরিষ্কার করা; এই সব কাজ আগেই করেছিলেন মেয়র থাকাকালীন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কড়া সিদ্ধান্তই সাধারণ মানুষের মনে আস্থা তৈরি করে। বাংলাতেও ভোটের মুখে অনেকে বালেনের মতো ভাবনাচিন্তার তারিফ করছেন। অনেকেই মনে করছেন, শুধু বড় বড় প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে সামাজিক উন্নয়ন চাই। সাধারণ মানুষের চাহিদা স্পষ্ট; সহজ, সৎ এবং কঠোর প্রশাসন।
প্রশ্ন একটাই। বাংলায় কি সত্যিই 'বালেন শাহ মডেল' সম্ভব? এ বিষয়ে আপনার কী মতামত? জানান আমাদের কমেন্ট সেকশনে।