• আরএসএসের আশঙ্কাই সত্যি? মোদির নিরাপত্তা নিয়ে ‘ডিল’ করা বিহারের যুবক আসলে কে?
    প্রতিদিন | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কি খুনের ছক কষেছে (Narendra Modi assassination plot) মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ? আরএসএস-এর মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এ সম্প্রতি এমনই দাবি করা হয়েছিল। এবার আরও এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এল। জানা গিয়েছে, বিহারের এক যুবক বক্সারে বসে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে এক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ‘ডিল’ করার চেষ্টা করেছিল। যদিও সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি। ধরা পড়েছে ওই যুবক।

    পুলিশ সূত্রের খবর, টাকার বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার প্রস্তাব দিয়ে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার ওয়েবসাইটে বার্তা পাঠিয়েছিল বিহারের বক্সারের বাসিন্দা অমল কুমার তিওয়ারি। এমনকী ওই যুবক দাবি করে, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেলে সে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় বড় ধরনের ফাঁকফোকর তৈরি করে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, এই পরিকল্পনার জন্য একটি সময়সীমাও নির্ধারণ করেছিল অমল। পুলিশের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গোপনীয় তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করছিল এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল।  যদিও পুরো বিষয়টি সাইবার পুলিশের নজরে চলে আসে। তড়িঘড়ি তাঁকে গ্রেপ্তার করে বক্সার পুলিশ।

    বক্সার পুলিশের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অমল কুমার তিওয়ারি দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সাইবার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু ডিজিটাল। তাঁর মোবাইল পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে একাধিক ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করে একাধিক ওয়েবসাইট হ্যাক করার চেষ্টা করত সে। অতীতে কলকাতা বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট হ্যাক করার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। আপাতত একযোগে অমলকে জেরা করছে বিহার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা। অমল পুরোটা নিজের ইচ্ছায় করেছিলেন নাকি অন্য কোনও সংস্থার সঙ্গে তিনি যুক্ত, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ‘অর্গানাইজার’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ চিনে সাংহাই কো-অপারেশনের বৈঠক চলাকালীন মোদিকে খুনের ছক কষেছিল। ভারত এবং রাশিয়ার গুপ্তচর বাহিনীর যৌথ ‘অপারেশনের’ ফলে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। ‘অর্গানাইজার’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাংহাই কোঅপারেশনের বৈঠক চলাকালীন ৩১ আগস্ট পুতিন যখন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একই গাড়িতে চড়ে যাচ্ছিলেন এবং প্রায় ৪৫ মিনিট রুশ প্রেসিডেন্ট এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে ছিলেন, তখনই সিআইএ-র এই পরিকল্পনা এবং আততায়ীদের পাঠানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই ৪৫ মিনিট সময় কাটানো নাকি তাঁর পূর্বনির্ধারিত সূচিতেও ছিল না। পুরোটাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য শেষ মুহূর্তে ঠিক করা হয়। ওইদিন মোদি যদি পুতিনের সঙ্গে না থাকতেন, তাহলে অঘটন ঘটে যেতে পারত। সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর এবার বিহারের যুবকের কীর্তি প্রকাশ্যে। স্বাভাবিকভাবেই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)