• সারি-সারনা ধর্মকে স্বীকৃতির ঘোষণা মমতার
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ছাব্বিশের নির্বাচনে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। ঝাড়গ্রামসহ জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই সম্প্রদায়ের প্রভাব যথেষ্ট, ফলে তাঁদের সমর্থন পেতে মরিয়া সব রাজনৈতিক দলই। একদিকে গেরুয়া শিবির ভাষাগত স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ধর্মীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে এই ভোটব্যাঙ্ককে কাছে টানার চেষ্টা করছে।দুই শিবিরের দুই ঘোষণার মাঝে নিজেদের জাতিসত্ত্বা বজায় রাখতে কোন দিকে ঝুঁকবেন আদিবাসীরা, সেই অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গিয়েছে।

    শনিবার ঝাড়গ্রামের জামদার সার্কাস ময়দানে নির্বাচনী সভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, চতুর্থবার ক্ষমতায় ফিরলে আদিবাসীদের সারি-সারনা ধর্মকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসীরা এই ধর্মাচরণ করলেও তা এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি।

    অন্যদিকে, আদিবাসী সমাজের আরেক গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা। এই দাবিকে সামনে রেখেই বিজেপি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার ছাব্বিশের ভোটের সংকল্পপত্র বা ইস্তেহার প্রকাশ করে অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় এলে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হবে কুড়মালি ভাষা। এর আগে রাজ্য সরকারও কেন্দ্রের কাছে এই বিষয়ে আবেদন জানালেও এখনও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই প্রতিশ্রুতির মধ্যে স্পষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে—একদিকে ভাষাগত পরিচয়ের স্বীকৃতি, অন্যদিকে ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যের স্বীকৃতি। আদিবাসী সমাজের কাছে কোন বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেটাই নির্ধারণ করবে তাঁদের ভোটের অভিমুখ।

    আগামী ২৩ এপ্রিল ঝাড়গ্রামের সমস্ত আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। তার আগে প্রচারে ঝড় তুলছেন দুই শিবিরের হেভিওয়েট নেতারা। জঙ্গলমহলের শাল-পিয়ালের বনে এখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটে আদিবাসী ভোট কোন দিকে ঝুঁকবে, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)