• মিথ্যা প্রচার মোদির, সংসদে আর মহিলা সংশোধনী বিল সমর্থন করবে না কংগ্রেস
    বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মহিলা সংরক্ষণের নামে মিথ্যা প্রচার করে নরেন্দ্র মোদিকে বাংলা এবং তামিলনাড়ুর ভোটে কোনো লাভ পেতে দেব না। শুক্রবার এমনটাই জানিয়ে দিল কংগ্রেস। তিন বছর আগেই পাশ হয়ে আইনে পরিণত হওয়া বিলকে ফের নতুন করে সংসদে সংশোধন করার সরকারি উদ্যোগের প্রবল সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। তাই মহিলা সংরক্ষণ আইন সংশোধনে এলাকা পুনর্বিন্যাসের সংশোধনী বিল সমর্থন করবে না কংগ্রেস। শুক্রবার ‘কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি’র বৈঠকে এমনটাই ঠিক করা হল। 

    বৈঠকের পর দলের মুখ্য মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, মহিলা সংরক্ষণ বিল তো সর্বসম্মত পাশ হয়েছিল ২০২৩ সালেই। ফলে সেটিকে নতুন করে সমর্থন দেওয়া-না দেওয়ার বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক। মোদির লক্ষ্য হল, এলাকা পুনবিন্যাস। সেটি কেন সমর্থন দেব? যদিও সরকারের ডাকা আগামী ১৬-১৮ এপ্রিলের সংসদ অধিবেশনে সমগ্র বিরোধীরা কীভাবে ভোট করবে, তার স্ট্র্যাটেজি চূড়ান্ত করতে আগামী ১৫ এপ্রিল বিজেপি-বিরোধী দলের বৈঠক ডাকছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। রবিবার ১২ এপ্রিল ওই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেটি পিছিয়ে দেওয়া হল। 

    লোকসভা এবং বিধানসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্বের আইন তৈরি হয়েছে ২০২৩ সালে। সংসদে সর্বসম্মত পাশ হয়েছিল ১২৮ তম সংবিধান সংশোধন বিল। কিন্তু সেটি কার্যকর হবে ২০২৯ সালে। নতুন সেন্সাসের পর। কিন্তু আচমকাই মোদির ইচ্ছা, পুরনো সেন্সাস অর্থাৎ ২০১১ সালকেই ভিত্তি করেই কার্যকর হবে মহিলা সংরক্ষণ। তাই পুরনো সেন্সাস ধরেই হবে এলাকা পুনর্বিন্যাস। সরকারের এই উদ্যোগ স্রেফ নির্লজ্জ রাজনীতি বলেই তোপ দেগেছে কংগ্রেস। তাছাড়া ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, সংসদে আগামী ১৬-১৮ এপ্রিলে এটি পাশ হলেও তো আর বাংলা বা তামিলনাড়ুর এবারের ভোটে তা কার্যকর হচ্ছে না। তাই মোদি বা বিজেপির প্রচার যে স্রেফ ফাঁপা, তা বলাই বাহুল্য। 

    তাই জয়রাম রমেশ নরেন্দ্র মোদিকে দ্বিচারী, ডিগবাজি খাওয়া প্রধানমন্ত্রী বলেই কটাক্ষ করেছেন। বলেছেন, মিডিয়ায় প্রচার, প্রবন্ধ লিখে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে মহিলা সংরক্ষণের একমাত্র চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। আসলে তাঁর ভারতের মহিলাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। কেন ২০২৩ সালে সর্বসম্মত বিল পাশ করে বিরোধীরা বারবার বলা সত্ত্বেও তা ২০২৪ সাল থেকেই চালু হয়নি? তখন তো প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষণকে ২০২৭ সালের জনগণনা এবং এলাকা পুনর্বিন্যাসের (ডিলিমিটেশন) কথা বলেছিলেন। এখন তাহলে কেন ডিগবাজি? স্রেফ বাংলা আর তামিলনাড়ুর ভোট? প্রধানমন্ত্রীর ভণ্ডামি আর প্রতারণার কোনো সীমা নেই। 
  • Link to this news (বর্তমান)