• ট্রাইবুনালে বৈধ ভোটারদের ভাগ্য নির্ধারণ ১৩ই, জানাল সুপ্রিম কোর্ট
    বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাওয়ার পরও বাদ পড়া ‘বিচারাধীন’ ভোটার যদি ট্রাইবুনালে বৈধ বলে চিহ্নিত হন, তিনি কি আদৌ এবার ভোট দিতে পারবেন? এসআইআর পর্বে বাংলায় এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই শুক্রবার আশার আলো দেখাল সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাইবুনালে আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে না—এই অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন ১৩ জন ভোটার। এদিন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চের সামনে সুযোগ পেয়েই ঩বিষয়টি উল্লেখ করেন আবেদনকারীর আইনজীবী রউফ রহিম। তখনই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলার এসআইআর মামলার শুনানি আছে। সেদিনই আপনাদের বিষয়টিও শোনা হবে। এবারের ভোটার তালিকায় নাম ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার পরেও কিছু করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য—প্রকৃত ভোটাররা চিরকালের জন্য যেন ভোটাধিকার না হারায়।’ যদিও দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শুনিয়ে রাখেন, ‘গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে না। বিবেচনা করা হবে।’

    পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট আগামী ২৩ এপ্রিল। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফার ওই ১৫২ কেন্দ্রের ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়েছে গত ৬ এপ্রিল। একইভাবে দ্বিতীয় দফার ভোটের (আগামী ২৯ এপ্রিল) ১৪২ আসনের এবারের ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়েছে ৯ এপ্রিল। ওইদিন পর্যন্ত তালিকায় যাদের নাম আছে, এবারের ভোটার তারাই। কিন্তু খসড়া তালিকায় নাম ছিল, অ্যাডজুডিকেশনেও ছিল, ট্রাইবুনালে আবেদনের পরও কেন তাঁদের এবারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হবে? এই প্রশ্ন তুলেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন হুগলির আরামবাগের ভোটার কুয়ারাইশা ইয়াসমিন, মহম্মদ সইফুল্লার পাশাপাশি মালদহের শেলি আখতার, কামিরুল আলমের মতো ১৩ জন। তাঁরা একই পরিবারের সদস্য বলে জানিয়ে আইনজীবী রউফ রহিম বলেন, ‘প্রত্যেকের পাসপোর্ট রয়েছে। তাহলে কেন বাদ?’ 

    যদিও নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু বলেন, ‘ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার পর আর নতুন করে কারও নাম অন্তর্ভুক্ত হবে না। পরে ট্রাইবুনাল কারও নামে ছাড় দিলে, তিনি বৈধ ভোটার হবেন। তবে এবার ভোট দিতে পারবেন না। পরের কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাসপোর্টই যদি আছে, তাহলে আগেই কেন ট্রাইবুনালে আবেদন করেননি?’ পালটা রউফ রহিমের সওয়াল, ‘ট্রাইবুনালের কাজই তো শুরু হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট গত ১০ মার্চ ট্রাইবুনাল গঠন করার কথা বলেছিল। কিন্তু সেটির কাজ শুরু হয়েছে মাত্র কয়েকদিন আগে। দু’জনকে পাসপোর্টের ভিত্তিতে ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। তাহলে এই আবেদনকারীদের কী দোষ?’ তখনই বিচারপতি বাগচীর আশ্বাস, ‘বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)