• ইডি-সিবিআইয়ের সঙ্গে এবার জুড়বে ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্সও, ঢেলে সাজছে ভারতের গোয়েন্দা এজেন্সি
    বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও নজরদারি এজেন্সি ব্যবস্থাকে আমূল বদলে ফেলা হবে। ইডি, সিবিআই, আইবি—প্রতিটি এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত হবে ‘ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স উইং’। অভ্যন্তরীণ ইন্টেলিজেন্স, আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল ট্র্যাকিং, লাইভ অ্যানালিটিকস এবং ক্রস এজেন্সি ডেটা-ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং সিস্টেম আসবে একই ছাতার নীচে। ফলে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে আসা গোয়েন্দাদের গোপন বার্তা পৌঁছে যাবে প্রতিটি কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে। এমনকি এই প্রথম মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সকেও এমন একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হবে, যেখানে বাকি এজেন্সিগুলিও রয়েছে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের গোয়েন্দা বার্তা ডেটাবেস যুক্ত করা, ডেটা শেয়ারিং, নিয়মিত ইনপুট পর্যালোচনা এবং যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে নিখুঁত সমন্বয়— কার্যত এই স্টাইলেই চলে আমেরিকার পেন্টাগন। সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাদৃশ্য থাকবে ভারত সরকারের এই নয়া উদ্যোগের। পেন্টাগন অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ‘অপারেশন উইং’। কিন্তু ভারতে ইন্টেলিজেন্সি নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমের সংযোগ ও সমন্বয় ঘটাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আর এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কার্যকর করার আগে আলোচনা করা হবে রাজ্যগুলির সঙ্গেও। কারণ, রাজ্যের ও কেন্দ্রের মধ্যে গোয়েন্দা বার্তা আদানপ্রদান নিয়ে দ্বিধা ও সংঘাত দীর্ঘদিনের। সেই দূরত্ব কমিয়ে এবার আরও বেশি করে ডেটা ও ইনপুট শেয়ারিংয়ের উপর জোর দেওয়া হবে।

    অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে এই উদ্যোগের পাশাপাশি সামরিক উপকরণ ক্রয় করার নতুন নীতি গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। লক্ষ্য একটাই— তিন সামরিক বিভাগের মধ্যে যার যখন যে সামরিক সরঞ্জামের প্রয়োজন, সেটির ব্যবস্থা যাতে তারা নিজেরাই বিভাগীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে করে ফেলতে পারে। সেজন্য স্থল, বায়ু, নৌ—তিন বাহিনীকেই ‘ইমার্জেন্সি প্রকিওরমেন্ট পাওয়ার’ দেওয়া হবে। অর্থাৎ আমলাতন্ত্রের ফাঁদে পড়ে সামরিক কেনাকাটা যেন থমকে না যায়, তা সুনিশ্চিত করা হবে। কবে কেন্দ্রীয় স্তরের কোন বৈঠক হবে, সেখানেই অনুমোদন হবে... এই পুরনো ব্যবস্থা আর থাকবে না। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে বহু সামরিক ‘ডিল’-এ দেরি হয়েছে। সামরিক সরঞ্জাম ডেলিভারিও আটকে গিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, আবার বিপুল সামরিক সরঞ্জাম কেনার একটি পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎই প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে। সেই কারণেই ‘কমব্যাট রেডিনেস’ নীতি নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যে কোনো মুহূর্তে সিদ্ধান্ত এবং পরক্ষণেই যাতে অভিযানে নামা যায় সেরকমই প্রস্তুতি যেন সর্বদাই থাকে তিন বাহিনির, সেটাই নিশ্চিত করা হবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)