গায়ের রং কালো, প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করল তরুণী! গ্রেপ্তার দুই
বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
ভোপাল: স্বামীকে খুন করে ডাকাতির গল্প ফেঁদেছিলেন। নিজের মিথ্যার জালে নিজেই জড়ালেন শেষমেশ। ফাঁস হল প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুনের ষড়যন্ত্র। মধ্যপ্রদেশের ধর জেলার ঘটনা হার মানাবে সিনেমাকেও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ এপ্রিল নিজের বাড়িতে খুন হন বছর ২৮-র মশলা ব্যবসায়ী পুরোহিত দেবকৃষ্ণ। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা পুরোহিত (২৫)। পুলিশকে তিনি জানান, বাড়িতে ডাকাত পড়েছিল। সাড়ে তিন লক্ষ টাকার গয়না লুট হয়েছে। দুষ্কৃতীদের বাধা দিতে গিয়েই খুন হয়েছেন তাঁর স্বামী। সেই সময় তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে জানান প্রিয়াঙ্কা। প্রাথমিকভাবে এই তত্ত্ব বিশ্বাস করলেও তদন্ত থামায়নি পুলিশ। ঘটনাকে অন্যদিকে মোড় নেয় নিহত দেবকৃষ্ণর বাড়ির লোকজনের কথায়।
দেবকৃষ্ণর বোন পুলিশকে জানান, দাদা-বৌদির সম্পর্ক ভালো ছিল না। বিয়ের পর থেকেই দাদার গায়ের রং নিয়ে বৌদি খোটা দিত। বারবার বলত, ‘তুমি কালো। আমার যোগ্য নও।’ এরপর খুনের ঘটনা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন করা হয় প্রিয়াঙ্কাকে। তবে এবার আর গুছিয়ে ‘মিথ্যা’ বলতে পারেননি তিনি। বয়ানে অসঙ্গতি মিলতে জেরার মেজাজ বাড়ান পুলিশ অফিসাররা। চাপে পড়ে সব সত্যি স্বীকার করেন প্রিয়াঙ্কা। জানান, প্রেমিক কমলেশের সঙ্গে চক্রান্ত করেই দেবকৃষ্ণকে খুন করেছেন। বিয়ের পরও রাজগড়ের বাসিন্দা কমলেশ পুরোহিতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। পথের কাঁটা দেবকৃষ্ণকে সরাতে না পারলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই ভাড়াটে খুনির সঙ্গে দেবকৃষ্ণকে হত্যার জন্য ১ লক্ষ টাকার চুক্তি করেন দু’জনে। অগ্রিম ৫০ হাজার টাকাও দেন। ঘটনার দিন ইচ্ছা করেই বাড়ির সদর দরজা খুলে রেখেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। গভীর রাতে বাড়ি ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দেবকৃষ্ণকে হত্যা করে ওই ভাড়াটে খুনি। ডাকাতির কথাও সম্পূর্ণ সাজানো। তল্লাশি চালিয়ে দেবকৃষ্ণর বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় খোয়া যাওয়া গয়না। ইতিমধ্যেই প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর প্রেমিক কমলেশকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ। দোষীদের চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহত দেবকৃষ্ণর পরিবার।