• ভোটার যাচাইও বিএলওদের কাঁধে! ক্যামেরা থেকে তালিকা, ১৬ দফা নির্দেশিকায় নয়া ফরমান কমিশনের
    বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর পর্ব শেষ। এবার বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) কাঁধে ভোটের নয়া দায়িত্ব চাপাল নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণের দিন বুথে আসা ভোটারদের পরিচয় যাচাই করতে হবে তাঁদেরই। এমনকি বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের ক্যামেরা কোথায় কীভাবে বসবে, সেটা নিশ্চিত করার দায় পর্যন্ত বিএলওদের উপর চাপানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ভোটের দিন কোনো সমস্যা হলে, নজরদারিতে ফাঁক থাকলে তাঁদেরই যে কাঠগড়ায় তোলা হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইঙ্গিত স্পষ্ট—এসআইআরের পর এবার বিএলওদের কাঁধে বন্দুক রেখে ভোটপর্ব পার করতে চাইছে কমিশন। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশও এব্যাপারে একমত। 

    আগের নির্বাচনগুলিতে কমিশনের দেওয়া ভোটার স্লিপ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল বিএলওদের কাজ। কিন্তু এবার সেখানেই শেষ হচ্ছে না দায়িত্ব। ভোটার স্লিপ বিলি থেকে ভোটের দিন কীভাবে কাজ করতে হবে তা নিয়ে বিএলওদের জন্য ১৬ দফার ফরমান জারি করেছে কমিশন। যার মধ্যে অন্যতম, ভোটার যাচাই। অর্থাৎ কোনো ভুয়ো ভোটার যাতে বুথে প্রবেশ না করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে বিএলওদের। পড়শি রাজ্য বিহারেও বিধানসভা নির্বাচনের সময় নির্দেশিকা জারি করে বোরখা পরিহিত মহিলা ভোটারদের পরিচিতি যাচাই করতে বলেছিল কমিশন। সেই নির্দেশনামার কথা উল্লেখ করে এবার কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন ‘ভোটারস অ্যাসিসট্যান্স বুথ’ থেকেই ভোটারদের পরিচয় যাচাই করতে হবে। বোরখা পরে কেউ এলে তাঁর পরিচিতি নিশ্চিত করবেন মহিলা বিএলওরা। ফলে প্রতি বুথেই পুরুষ ও মহিলা বিএলওকে থাকতে হবে। নির্দেশে আরও উল্লেখ, ভোটার যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যদি অস্বাভাবিক কিছু দেখা যায়, সঙ্গে সঙ্গে তা জানাতে হবে ভে প্রিসাইডিং অফিসারকে।

    ভোটার স্লিপ বিলির ক্ষেত্রেও এবার একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কমিশন। ভোটের পাঁচ দিন আগে এই কাজ শেষ করে পড়ে থাকা স্লিপগুলি রিটার্নিং অফিসারদের ফেরত দিতে হবে। সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বিএলওদের। এবারের নির্বাচনে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং নিশ্চিত করতে প্রতি বুথে ‘এআই’ ক্যামেরা থাকবে বলে কমিশনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল। সেই ক্যামেরা বুথের কোথায় কীভাবে লাগাতে হবে, নির্দেশ অনুযায়ী তা স্থির করবেন সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও এবং সেক্টর অফিসার। প্রতিটি বুথে ক্যামেরা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, সেসম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে রিটার্নিং অফিসারকে একটি রিপোর্ট দিতে হবে। সেটাও বিএলওদেরই দায়িত্ব। এছাড়া বুথের ভিতর কোথায় ভোটিং কম্পার্টমেন্ট থাকবে বা ভোটকর্মীরা কোথায় বসবেন, সেটাও বিএলও এবং সেক্টর অফিসাররা ঠিক করবেন।  

    সব মিলিয়ে এবার বিএলওদের ঘাড়েই ভোট ও ভোটের আগে যাবতীয় কাজের ফিরিস্তি চাপিয়ে বৈতরণী পেরতে উদ্যোগী কমিশন। এসআইআর পর্বের মতো কাজে গাফিলতি প্রমাণ হলে তাঁদের উপর যে শাস্তির খাঁড়া নেমে আসবে, সেটা বলাই বাহুল্য। তবে ভোটের দিন বিএলওদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট নির্দেশনামা জারি করেনি কমিশন।
  • Link to this news (বর্তমান)