• মোদি সরকারের ‘জুমলা’, ক্ষোভে ফুঁসছে চা-বলয়, মমতার উন্নয়নই প্রচারে অস্ত্র তৃণমূলের
    বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: গত ১২ বছরে চা বলয় নিয়ে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ। আর এনিয়ে ভোটের মুখে ফুঁসছে উত্তরের চা মহল্লা। মোদি সরকারের ‘জুমলা’র বিরুদ্ধে সরব চা শ্রমিকরা। তাঁদের ওই ক্ষোভ সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে পদ্ম শিবিরকে। 

    বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্য মন্ত্রীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিয়ে চা শ্রমিকদের প্রশ্ন, ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ডুয়ার্সে এসে রুগ্ণ ও বন্ধ বাগান অধিগ্রহণের কথা বললেও আজও তা বাস্তবায়িত হল না কেন? ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে চা শ্রমিকদের উন্নয়নে কেন্দ্রের তরফে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করা হল। অসম ওই টাকা পেয়ে গেলেও বাংলার চা শ্রমিকরা এখনও তা পেলেন না কেন? ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকদের প্রশ্ন, ডুয়ার্সে কেন্দ্রের অধীনস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বাগানগুলিতে শ্রমিকরা মজুরি সহ ন্যায্য পাওনা পাচ্ছেন না কেন? ওই বাগানগুলিতে কেন কোটি কোটি টাকা পিএফ বকেয়া? 

    শুধু শ্রমিকরা নন, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আঙুল তুলতে ছাড়ছেন না চা বাগান মালিকদের একাংশ। তাঁদের তোপ, নতুন চা গাছ লাগানোর জন্য ‘রি প্ল্যান্টেশন সাবসিডি’ দেওয়ার কথা কেন্দ্রের। দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধ রাখা হয়েছে কেন? চা শ্রমিকদের ছেলেমেয়েরা যাতে ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য কেন্দ্রের তরফে অতীতে ভাতা দেওয়া হত। এখন তা ঠিকমতো মিলছে না কেন? 

    কেন্দ্রকে নিশানা করতে ছাড়ছেন না ক্ষুদ্র চা চাষিরাও। তাঁদের বক্তব্য, বারবার চিঠি দিয়ে মোদি সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে ক্ষুদ্র চা চাষিদের ‘কৃষক’ তকমা দেওয়া হয়। এটা হলে কৃষক কল্যাণে কেন্দ্রের যেসব প্রকল্প রয়েছে, সেগুলির সুবিধা পেতে পারবেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। কেন্দ্রের তরফে অবশ্য এনিয়ে আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। 

    চা শ্রমিকদের এই অসন্তোষকে ভোটের ময়দানে কাজে লাগাতে মরিয়া তৃণমূল। দলের চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি তথা দলের নাগরাকাটার প্রার্থী সঞ্জয় কুজুরের আক্রমণ, মোদি সরকারের জুমলায় চা বাগানের মানুষ আর ভুলবে না। বন্যায় পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সের চা বাগানের চরম ক্ষতি হলেও কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করেনি কেন্দ্র। ভিনরাজ্যের কাজু, নারকেলের জন্য টাকা দেওয়া হলেও উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে বরাদ্দ নেই। চা শ্রমিকরা পিএফ পাচ্ছেন না। বকেয়া পিএফের পরিমাণ প্রায় একশো কোটি টাকা। 

    চা শ্রমিকদের জন্য কী করেছে মমতা সরকার? তৃণমূলের দাবি,বর্তমান রাজ্য  সরকারের আমলে ৬৭ টাকা থেকে বেড়ে চা শ্রমিকদের মজুরি আড়াইশো টাকা হয়েছে। তরাই-ডুয়ার্সে ৯৫টি ক্রেশ হচ্ছে। চালু হয়েছে বেশিরভাগই। চা বাগানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পানীয় জল, রাস্তা, কালভার্ট, সেতু, সৌরবাতি, কমিউনিটি হল হয়েছে। বিনামূল্যে মিলছে রেশন। বাগানের পতিত জমিতে হচ্ছে টি ট্যুরিজম। শ্রমিকদের ছেলেমেয়েদের জন্য চালু হয়েছে নিখরচায় স্কুলবাস। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, জয় জোহার, তপশিলি বন্ধু পেনশন মিলছে। হস্টেলে নিখরচায় থাকা-খাওয়ার সুবিধা রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। 

    আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গার সাফাই, প্রধানমন্ত্রী রুগ্ণ ও বন্ধ বাগান অধিগ্রহণের কথা বললেও মালিকপক্ষ মামলা করায় আটকে গিয়েছে। প্রভিডেন্ট ফান্ড খেলাপি বাগান মালিকদের বিরুদ্ধে পিএফ অফিস এফআইআর করছে। রাজ্যের পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না কেন? হাজার কোটির তহবিল নিয়ে মনোজের দাবি, রাজ্য কমিটি না গড়ায় ওই টাকা দেওয়া যায়নি। 
  • Link to this news (বর্তমান)