ভাইরাল ভিডিও কাণ্ডে বিপাকে হুমায়ুন, দলে ও ট্রাস্টি বোর্ডে ভাঙন, জোট ছাড়ল মিম
বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
অভিষেক পাল, বহরমপুর: ভাইরাল ভিডিও-কাণ্ডে মহাসংকটে হুমায়ুন কবীর। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)। একদিকে, জোট ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছে মিম। অন্যদিকে, পার্টির সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন খোবায়েব আমিন। ভাঙন ধরেছে বাবরি মসজিদ নির্মাণ বিষয়ক ট্রাস্টেরও। কোষাধ্যক্ষের পদ ছাড়লেন মইনুল হক। শুক্রবারই দু’জনে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন হুমায়ুনের কাছে। আগামী দু’একদিনের মধ্যে হুমায়ুনের পার্টির বেশ কয়েকজন প্রার্থীও নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে তাঁদের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর। সবমিলিয়ে, ভিডিও-কাণ্ডের অভিঘাতে ক্রমেই একা হয়ে পড়ছেন ‘মুসলিমদের মসিহা’ হিসেবে জাহির করা হুমায়ুন।
কিন্তু, ঘটনা হল, ভিডিওটি প্রকাশের পর সেটি এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছিলেন এজেইউপি’র চেয়ারম্যান। তিনি হাইকোর্টে মামলা করারও হুমকি দিয়েছেন। তারপরও কেন ওয়াইসির মতো পোড়খাওয়া রাজনীতিক হুমায়ুনের সঙ্গ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন? কেনই বা ভেঙে পড়ছে এজেইউপি? তা হলে কি হুমায়ুনের দাবিকে মান্যতা দিচ্ছেন না কেউই? অর্থাৎ, ভিডিওটি এআই নির্মিত নয় বলেই মনে করছেন সকলে। এ প্রসঙ্গে এদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘হুমায়ুন কবীর এবং বিজেপির নেতা দু’জনেই বলছেন ওটা নাকি এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। লক্ষ্যকরুন, দুই নেতার বক্তব্যের সুর এক। অঙ্কটা এবার সবাই মিলিয়ে নিন। ঠাকুর ঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি!’ সাইবার বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এআইকে দিয়ে ১৯ মিনিটের দীর্ঘ ভিডিও তৈরি করা খুব সহজ কাজ নয়। আবার ভুল হিন্দিও এআই দিয়ে বলানোও যাবে না। কথাবার্তার আওয়াজও খুব নিখুঁত হয়।
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার আবেগ উস্কে মুসলিমদের এককাট্টা করতে চেয়েছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু, তাঁর এই চাওয়ার নেপথ্যে আসল উদ্দেশ্য ফাঁস হয়ে পড়ে তৃণমূলের প্রকাশ করা ওই ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। এর ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) এজেইউপি’র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। ওয়াইসির দলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এমনই ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্টতই জানানো হয়, ‘মুসলিমদের আত্মসম্মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এমন কোনো বিবৃতির সঙ্গে নিজেদের জড়াতে চায় না মিম। আজ থেকে হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে জোট ভেঙে দেওয়া হল।’ তবে, বাংলার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে না মিম। এককভাবে লড়াই করবে তারা। মিমের এই ঘোষণার কিছু পরেই হুমায়ুনের সঙ্গ ত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন খোবায়েব ও মইনুল হক। মইনুল অবশ্য এজেইউপি’র সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তিনি বাবরি মসজিদ নির্মাণে গঠিত ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে ট্রাস্টির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। কোটি কোটি টাকা অনুদান আসা শুরু হতেই এটা গঠন করেছিলেন হুমায়ুন। মইনুলের অভিযোগ, ট্রাস্টির কোনো কাজের ব্যাপারে তাঁকে জানানো হতো না। তারউপর ভিডিও-কাণ্ডে তিনি ব্যথিত। এই দু’য়ের কারণে ট্রাস্টি থেকে পদত্যাগ করেন বলে মইনুল জানান।
মিমের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল শেখ বলেন, ‘এ রাজ্যে সংখ্যালঘু মানুষকে কেউ যদি বোকা বানাতে চায় তার সঙ্গে আমরা থাকতে চাই না।’ হুমায়ুন বলেন, ‘আমি কারোর উপর নির্ভর করে রাজনৈতিক দল তৈরি করিনি।’ বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, বিজেপির এজেন্ট হিসেবে হুমায়ুন কাজ করছে। এটা আমরা বহুদিন আগে থেকে বলছি।