দুর্নীতি মামলায় জেলখাটা তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা দিবাকর জানা যোগ দিলেন বিজেপিতে
বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দুর্নীতি মামলায় ১১১দিন জেল খাটা বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা দিবাকর জানাকে দলে নিল বিজেপি। শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি দিবাকর। শুক্রবার তমলুকে জেলা বিজেপি কার্যালয়ে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন জেলা বিজেপি সভাপতি মলয় সিনহা, জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বামদেব গুছাইত প্রমুখ। ২০২৪সালে লোকসভা ভোটের সময়েও বিজেপিতে যোগ না দিয়েই পদ্মপ্রার্থীর পক্ষে সাংগঠনিক কাজকর্ম করেছিলেন দিবাকর। বিধানসভা ভোটে তাঁকে কাজে লাগাতে এবার সরাসরি তাঁর হাতে পতাকা তুলে দিলেন বিজেপি নেতারা।
২০২০ সালে ৮ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিবাকর জানার নেতৃত্বের কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মী সংগঠনের ডেপুটেশন ছিল। সেই কর্মসূচি চলাকালীন ম্যানেজারকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় দিবাকরকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি তাঁর জেল হয়। পরবর্তীতে জামিন পেলেও অনাস্থা এনে তাঁকে সভাপতির পদ থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ২০২২সালে ২৮ডিসেম্বর বোল্ডার দুর্নীতি মামলায় আবারও পুলিশের হাতে ধরা পড়েন দিবাকর। ওই মামলায় শান্তিপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন প্রধান সেলিম আলিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১১১দিন জেল খাটার পর তাঁরা জামিনে ছাড়া পান। দিবাকরের মতো সেলিমকেও দল থেকে বিতাড়িত করেছিল তৃণমূল। সম্প্রতি সেলিম তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার দিবাকর বিজেপিতে যোগ দিলেন।
ভোট এলেই দিবাকর নিজস্ব টিম নিয়ে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা দাপাতেন। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে সাসপেন্ড করার পর ২০২৩সালে পঞ্চায়েত এবং ২০২৪সালে লোকসভা ভোটে পিছন থেকে বিজেপির হয়ে কাজ করার অভিযোগ ওঠেছিল। এদিন দলে যোগ দেওয়ার পর পিছন থেকে বিজেপির হয়ে কাজ করার দাবি স্বীকার করেছেন দিবাকর। এবার দলের পতাকা নিয়েই শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে প্রকাশ্যে রাজনীতি করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিন দিবাকর বলেন, বিজেপি নেতাদের পরামর্শ মেনে এবং প্রত্যেক কার্যকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আগামী দিনে কাজ করব। ২০২৪সালে বিধানসভা ভোটে বিজেপি কর্মীরা মানুষের কাছে গিয়েছিলেন। আমরা তাঁদের পিছনে ছিলাম। বিজেপিতে যোগ দিতে পেরে আমি গর্বিত। প্রাণ দিয়ে এই পতাকাকে রক্ষা করব। তৃণমূল পাঁচ বছর আগে আমাকে সাসপেন্ড করেছিল। মিথ্যা মামলায় আমাকে জেল খাটিয়েছে। ২০২৩সালে পঞ্চায়েত এবং ২০২৪সালে লোকসভা ভোটে তার জবাব দিয়েছি। এবার বিধানসভা ভোটেও জবাব দেব।
তৃণমূল যুব কংগ্রেসের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক সভাপতি সুমিত সামন্ত বলেন, দিবাকর তোলা আদায় করতেন। তিনি বিপুল টাকা কামিয়ে হোটেল, রিসর্ট বানিয়েছেন। দাগিদের দল থেকে বের করা হয়েছে। এই ব্লকে দল এখন অনেক স্বচ্ছ। তিনি ফের দলে ঢুকতে চেয়েছিলেন। আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু, আমাদের পার্টি নেতৃত্ব আমল দেয়নি। তাই শেষমেশ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। গোটা ব্লকের মানুষ ওকে চিনে নিয়েছেন। সুতরাং, উনি কিছু করতে পারবেন না।